সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা: কলেজ স্ট্রীট থেকে দু দিনের জন্য উঠে যেতে বলা হল। কারণ সেই ফণী। যাতে বই ব্যবসায়ীরা নিজেরা সুস্থ থাকেন এবং তাদের দোকানের কোনও ক্ষতি না হয়য় এর জন্যই পুরসভার পক্ষ থেকে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই এই সতর্কতার জন্য মাইকে করে প্রচার শুরু করা হয়েছে।

কফি হাউসের সরু গলি। দু’পাশ মানুষের ভিড়। দোকানদাররা বই বয়ে বয়ে নিয়ে আসছেন। এর মাঝেই একটা অটো ভিড় সরিয়ে বেড়িয়ে এল। তারপর মাইকে ঘোষণা করার শব্দ শুনতে পাওয়া গেল। বইওয়ালারা হাঁ করে শুনলেন। বলা হল , “আপনাদের অনুরোধ করা হচ্ছে শুক্র এবং শনিবার নিজেদের সেফটির জন্য দোকান না খুললেই ভালো হয়। কারণ ঝড় বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” মোক্তার শেখের বইয়ের দোকান। তিনি সব শুনে বাকিদের সঙ্গে আলোচনা করে নিলেন। যত তারতারি সম্ভব কাল দোকান বন্ধ করতে হবে। নিজের ক্ষতি কে চায়।

তিনি জানালেন , “আজকেই শুনলাম এমন কিছু হতে পারে। খবরে শুনেছি ঝড় আসছে। এত বড় কিছু হবে জানতাম না। এই এখন শুনে নিলাম। ঝুপড়ি ও ফুটপাথবাসীদের প্রাইমারী স্কুলে অথবা সরকারি আবাসনে উঠে আসতে বলতে শুনলাম। তারপর দুর্যোগ কেটে গেলে আবার ফিরে আসতে বলা হয়েছে। আমাদের জন্যও একই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।”

বই বিক্রেতা স্বপন দত্ত জানালেন , “আমরা জানি একটা ঝড় আসছে। সেটায় ক্ষয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমাদের এখানকার পুরসভার পাঁচ নম্বর বোরো থেকে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। উঠে যেতে বলা হয়নি। নিজেদের সুবিধা বুঝে পরিস্থিতি দেখে দোকান চালু রাখতে বলা হয়েছে। আমরা সবাই পুরসভার সঙ্গে সহায়তা করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এদিকে এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে , ফণীর সঙ্গে আরও দুরত্ব কমেছে রাজ্যের। এখনও পর্যন্ত একইরকম শক্তি নিয়ে তা ধেয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। বুধবার রাতেই বাংলার দিকে বাঁক নিয়েছিল ফনী। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে কলকাতা থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম এবং পুরীর ৩৬০ ,কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম , দীঘার ৬১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে ঝড়।

গত ছয় ঘণ্টায় সেটি ১৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় গতিবেগে ধেয়ে আসছে। বুধবার রাতে এর থেকে অনেক কম গতিতে এগিয়ে আসছিল। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম এবং পুরীর ৫৪০ ,কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম , দীঘার ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থান করছিল। তখন এর গতি ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার অর্থাৎ বুধবারের তুলনায় তিন গুন বেশি গতিবেগ বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।