কলকাতা: রোগীর মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখার মাসুল৷ কলকাতা পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তথা চিকিৎসক কে যেতে হল হোম কোয়ারেন্টাইনে৷ স্বাস্থ্য দফতর নির্দেশে তিনি বাড়িতেই গৃহ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন৷

সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক করোনা আক্রান্তের মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখেন পুরসভার ওই আধিকারিক তথা চিকিৎসক৷ এর পরই জানা যায় তিনি যে ব্যক্তির রিপোর্ট দেখেছেন ,পরে তার করোনা পজিটিভ আসে৷ করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংস্পর্শে আসায় স্বাস্থ্য দফতর ওই আধিকারিককে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন৷ কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কর্মরত।

গত ৪ এপ্রিল কলকাতার বৌবাজারের এক বাসিন্দা শারীরিক সমস্যা নিয়ে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য উপদেষ্টা তথা চিকিৎসকের চেম্বারে এসেছিলেন৷ ওই ব্যক্তি চেস্ট রিপোর্ট নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন৷ যদিও কলকাতা পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ওই চিকিৎসক নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখেই ওই রোগীর রিপোর্ট দেখেছিলেন৷

পরে জানা যায়, ওই রোগীর লালারসের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়েছে। এবং তার পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে৷ তার পরই স্বাস্থ্য দফতর তৎপর হয়ে ওই উপদেষ্টাকে গৃহ পর্যবেক্ষণে পাঠিয়েছে৷

অন্যদিকে বাংলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে বলে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। টুইটে সিপিএম নেতার অভিযোগ, ‘করোনায় মৃ-তের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে। এটা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’

সোমবারই নবান্নে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজ্যে ৬১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে। এর আগেও বিজেপির তরফে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। একইভাবে বামেরাও করোনা তথ্য রাজ্য প্রকৃতভাবে জানাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছিল।

এবার রাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে টুইটে সরকারকে বিঁধলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। টুইটে তিনি লেখেন, ‘বিশেষজ্ঞ কমিটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হয় বলেই তাঁদের কাজের স্বাধীনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সার্কুলারে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান পদ্ধতি নির্দিষ্ট থাকলে বিশেষজ্ঞ কমিটির পক্ষে স্বাধীন ভাবে কাজ করা অসম্ভব। করোনাতে মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে। এটা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনা করায় সোমবারই নাম না করে বিজেপির কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের আইটি সেল ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। কাঁসর ঘণ্টা নিয়ে পথে নেমে ভুল বোঝানো হচ্ছে। এটা রাজনীতি করার সময় নয়।’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।