মাদ্রিদ: ২০০৪-০৫ শেষবার রাফা বেনিতেজের প্রশিক্ষণে এসি মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব ঘরে তুলেছিল ‘দ্য রেডস’রা। এরপর ১৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। টটেনহ্যামকে হারিয়ে ষষ্ঠবার ইউরোপ সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিল লিভারপুল। ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অল-ইংল্যান্ড ফাইনালে টটেনহ্যামকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাজিমাত ক্লপের ছেলেদের।

মহম্মদ সালাহ, উইনালডাম, ওরিগিরা তো আছেনই। কিন্তু লিভারপুলের এই সাফল্যের নেপথ্য কারিগর হয়ে রইলেন তাঁদের জার্মান কোচ জুর্গেন ক্লপ। আর ক্লপকে ছাড়া এই জয় সম্ভব ছিল না। বলছেন লিভারপুল অধিনায়ক জর্ডন হেন্ডারসন। ব্রেন্ডন রজার্সকে সরিয়ে ২০১৫ দায়িত্বগ্রহণের পর ক্লাবে এক আমুল পরিবর্তন এনেছেন ক্লপ। তারই ফল টটেনহ্যামকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিভারপুলের এই ইউরোপ জয়।

আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন ‘দ্য রেডস’

হেন্ডারসনের কথায়, ‘কোচকে ছাড়া এই জয় কোনওমতেই সম্ভব ছিল না। মরশুমে অনেক কঠিন সময় এসেছে। কিন্তু দক্ষ হাতে সেই সকল মুহূর্ত সামাল দিয়েছেন কোচ।’ একইসঙ্গে রেডসদের অধিনায়কদের কথায়, ‘ড্রেসিংরুমে একটা ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ তৈরি করেছেন কোচ। তাই সব কৃতিত্ব ওনারই। এবার সামনে তাকানোর পালা।’ একইসঙ্গে জয় নিয়ে বলতে গিয়ে হেন্ডারসন জানান, ‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সহজ নয়। চলতি মরশুমে আমরা যে ফুটবলটা খেলেছি, তাতে যোগ্য দল হিসেবেই ইউরোপ সেরা হয়েছি আমরা।’

আরও পড়ুন: প্যারিসের হোটেলে নেইমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

রেকর্ড ৯৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেও চলতি মরশুমে অল্পের জন্য ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কাছে খোয়াতে হয়েছে প্রিমিয়র লিগ খেতাব। কিন্তু শনিবার রাতে মাদ্রিদের এস্তাদিও মেট্রোপলিটানোয় ইউরোপ সেরা হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন লিভারপুল ফুটবলাররা। একইসঙ্গে ফাইনালের ‘ব্যাড প্যাচ কাটিয়ে নিজেকে ‘লাকি’ প্রমাণ করলেন ক্লপও। ম্যাচের শুরুতেই মহম্মদ সালাহর গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুর।

ম্যাচের প্রথম মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সালাহ৷ গত মরশুমে চোটের জন্য ফাইনালে খেলা হয়নি মিশরীয় এই ফরোয়ার্ডের। কিন্তু এদিন শুরুতেই পার্থক্য গড়েন দেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে ৮৭ মিনিটে ওরিগির গোলে টটেনহ্যামকে হারিয়ে ইউরোপ সেরার খেতাব জিতে নেয় লিভারপুল।