লিভারপুল: চেলসি-ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ম্যাচ দেখতে লিভারপুলেরই একটি হোটেলে জড়ো হয়েছিলেন ভ্যান ডাইক, মোহামেদ সালাহরা। ৩৬ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ চেলসিকে এগিতে দিতেই শুরু হয়ে যায় কাউন্টডাউন। ৫৫ মিনিটে দি ব্রুয়েনা গোল শোধ করলেও উৎসাহে ভাঁটা পড়েনি। কারণ সিটি কোনওভাবে পয়েন্ট খোয়ালে খেতাব নিশ্চিত হয়ে যাবে তখনই।

৭৮ মিনিটে উইলিয়ান পেনাল্টি থেকে চেলসির হয়ে ব্যবধান বাড়াতেই শুরু হয়ে যায় সেলিব্রেশন। শেষ বাঁশি বাজার পরে বাঁধ ভাঙে লিভারপুল ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস, তখন বাইরে লিভারপুলের রাস্তাতেও সব পেয়েছির আনন্দ। তিন দশক পর ইংল্যান্ড সেরা লিভারপুল। ১৯৯২ নাম বদলে প্রিমিয়র লিগ আত্মপ্রকাশ হওয়ার পর এই প্রথম শিরোপা দখল করল রেডসরা। ফুটবলার-সমর্থকেরা যখন উচ্ছ্বাসে গা ভাসাচ্ছেন তখন একান্তে স্কাই স্পোর্টসকে অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে কেঁদেই ফেললেন গুরু ক্লপ।

তাঁর কাছে অপেক্ষাটা তিন দশকের নয়। কিন্তু সমর্থকদের তিন দশকের আক্ষেপ মেটাতে গত সাড়ে ৪ বছর ধরে যে পরিশ্রমটা ফুটবলারদের পিছনে তিনি করেছেন, এদিন যেন তারই ফল পেলেন জার্মান কোচ। স্কাই স্পোর্টসকে লিভারপুল বস জানালেন, ‘আমার কাছে প্রকাশ করার মতো সত্যিই কোনও ভাষা নেই। আমার কোচিং কেরিয়ারের খুব বড় একটা মুহূর্ত। আমি কখনও ভাবিনি এমন একটা মুহূর্ত আসবে আমার জীবনে। সেলিব্রেট করাটা এই সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই মুহূর্তগুলো কখনও ভোলার নয়। আগামীদিনে সমর্থকদের সঙ্গে আমরা প্যারাডে নামব ছবি তুলব।’

চোখের কোনে জল নিয়ে ক্লপ জানান, আজকের রাতটা তাঁর দলের ছেলেরা একসঙ্গে হৈ-হুল্লোড় করে কাটাবে। আজকের রাতটা কোনওভাবেই তাঁদের সামলে রাখা যায়নি বলে জানান বস। স্কাই স্পোর্টসকে আবেগঘন ক্লপ আরও বলেন, ‘সত্যি সিটির ম্যাচটা নিয়ে আজ সন্ধেয় ১০০ মিনিট চাপা টেনশনে ছিলাম। আমি ম্যাচটায় ডুবে যেতে চাইনি কিন্তু ম্যাচ দেখা শুরু করলে নিজেকে আর সামলানো যায় না। এই লিগ জয় আমাদের ছেলেদের এক অসামান্য কৃতিত্ব আর ওদের প্রশিক্ষণ দিতে পারাটা আমার কাছে খুব আনন্দের ব্যাপার।’

বুধবার রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে বড় জয় ফের চলতি সপ্তাহেই লিভারপুলের লিগ জয়ের সম্ভাবনা উসকে দেয়। সেকারণেই এদিন চেলসির বিরুদ্ধে সিটির ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দল। আর চেলসির বিরুদ্ধে সিটি হারতেই চূড়ান্ত হয়ে যায় ২০১৯-২০ ইংলিশ প্রিমিয়র লিগের ভাগ্য। বাকি সাত ম্যাচের প্রত্যেকটিতে জিতলেও আর কোনওভাবে লিভারপুলের ম্যাজিক ফিগার (৮৬) ছোঁয়া সম্ভব না দ্বিতীয়স্হানে থাকা ম্যান সিটির পক্ষে। ৩১ ম্যাচে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে তাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল লিভারপুল। দ্বিতীয়স্হানে থাকা ম্যান সিটির সংগ্রহে ৩১ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ