কলকাতা: দু’পাশে দাঁড়িয়ে দেহরক্ষী। হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। মাঝে দাঁড়িয়ে এমন একজন যাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল সরকার। চারটি দেশের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা তথা কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও) প্রধান জীবন সিংহ ভিডিও বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

হুমকিদাতা নিজেকে জীবন সিংহ বলে দাবি করা ব্যক্তির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি যেভাবে চতুর্থ দফা ভোটে কোচবিহারের শীতলকুচিতে গুলি চালিয়ে সাধারণকে মারা হয়েছে তার বদলা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে রাজ্যে বিধানচন্দ্র রায় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে কোচ জনজাতির উপর সব সরকারের অত্যাচার চলছে বলেও দাবি করেছে জঙ্গি নেতা। বিজেপির বিরুদ্ধে কোচ জাতিকে ভুল পথে চালানোর অভিযোগ তুলেছে।

নির্বাচন শেষ ও তৃণমূল কংগ্রেসের তৃতীয় দফার সরকার গঠনের পরই রক্তজল করা হুমকি ভিডিও ছড়িয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি কলকাতা ২৪x৭ সংবাদ মাধ্যম।

পাহাড় জঙ্গলের গোপন আস্তানা থেকে ভিডিওতে বার্তা দিয়েছেন যে ব্যক্তি তিনি নিজেকে কেএলও প্রধান জীবন সিংহ বলে দাবি করে। বেশকয়েক দশক পর তার অবয়ব দেখে বিশ্লেষণ করছেন গোয়েন্দারা। ভিডিও ভাইরাল।

২০০২ সালে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে কেএলও জঙ্গিরা হামলা করে। সেই হামলায় ৫ সিপিআইএম কর্মীর মৃত্যু হয়। এর পর শুরু হয় ২০০৩-২০০৪ সালে ভুটানের জঙ্গলে সে দেশের রয়াল ভুটান আর্মির অপরাশেন অলক্লিয়ার জঙ্গি দমন অভিযান। এই অভিযানের পর থেকে বেপাত্তা কেএলও প্রধান। পরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের শিবিরে মায়ানমারের লাগোয়া দুর্গম এলাকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে জীবন সিংহ। একাধিকবার তার মৃত্যু সংবাদ এসেছে। কোনবারই সেই তথ্যের প্রমাণ পায়নি ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ।

চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালে। নেপাল থেকে শিলিগুড়িরতে আসা অ্যাম্বুলেন্সে মেলে অচৈতন্য ভারতী দাসের দেহ। তিনি কেএলও প্রধান জীবন সিংহের স্ত্রী। তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বাসিন্দা তামির দাস ওরফে জীবন সিংহের সঙ্গে ভারতী নেপালের গোপন ডেরায় ছিল বলে অনুমান করা হয়। কিন্তু জীবন সিংহের কোনও খবর মেলেনি।

ভিডিও বার্তায় রাজ্য জুড়ে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের তীব্র সমালোচনা করে উত্তরবঙ্গে নিজেদের অবস্থান নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জীবন সিংহ। রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানায় কেএলও প্রধান বলে দাবি করা ব্যক্তি। তার দাবি, সব রাজনৈতিক দল রাজবংশীদের নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবেনি। তাদের আহ্বান জানিয়ে বার্তায় বলা হয়, ঐক্যবদ্ধ হও। আমাদের ভাষা সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। আমাদের রাজনৈতিক ভাগ্য আমরাই রক্ষা করব। আমাদের ভাষা সংস্কৃতি ধ্বংসের অধিকার কারোর নেই।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.