দুবাই: এভাবেও ফিরে আসা যায়৷ প্রথম ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর টানা দু’ম্যাচে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে জয় তুলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স৷ প্রথমে আবুধাবিতে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে রান তাড়া করে সাত উইকেটে জয়৷ আর বুধবার দুবাইয়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে বড় রানে জয়৷ গ্যালারিতে বসে নাইটদের এই জয় উপভোগ করলেন কিং খান৷

১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস৷ দুরন্ত বোলিং নাইটদের৷ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে রাজস্থান৷ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রয়্যালস অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে ডাগ-আউটে ফেরত পাঠিয়ে রাজস্থান বড় ধাক্কা দেন প্যাট কামিন্স৷ তারপর সঞ্জু স্যামসন ও জোস বাটলারকে তুলে নিয়ে জোড় ধাক্কা দেন শিভম মাভি৷ তার থেকে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে রাজস্থান৷

কমলেশ নাগরকোটি তাঁর প্রথম ওভারে দু’টি উইকেট তুলে নিয়ে রাজস্থানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন৷ তারপর বরুণ চক্রবর্তী তাঁর প্রথম ওভারে রাহুল তেওটিয়াকে তুলে নিয়ে কেকেআর-এর ম্যাচ জয়ের পথ প্রস্থথ করেন৷ শেষ পর্যন্ত লড়াই করে টম কারান ৩৬ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকলেও লক্ষ্য থেকে ৩৭ রান দূরে থামতে হয় রাজস্থানকে৷ ম্যাচের সেরা শিভম মাভি৷

এর আগে টস জিতে পিচের চরিত্র বুঝে নিতে রান তাড়া করার পথেই হাঁটেন রয়্যালস অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচেও ওপেনে নেমে ব্যর্থ সুনীল নারিনের পরিবর্ত নাইটরা আগামী ম্যাচে খুঁজলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৬ রানের মাথায় ফিরলেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে নিতিশ রানার সঙ্গে জুটিটা দারুণ জমেছিল গত ম্যাচের নায়ক শুভমান গিলের। জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান ৪৬ রান যোগ করেন। কিন্তু দশম ওভারের শেষ বলে নিতিশ রানা আউট হতেই ছন্দপতন হয় নাইটদের।

আরও একটা নিশ্চিত অর্ধশতরানের দিকে এগোচ্ছিলেন গিল। কিন্তু দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে আর্চারের ডেলিভারিতে অর্ধশতরান থেকে মাত্র তিন রান দূরে থমকে যেতে পঞ্জাব তনয়কে। ব্যাট হাতে আরও একবার ব্যর্থ অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের উপর চাপ যে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গতদিন শূন্য রানের পর এদিন নাইট অধিনায়কের সংগ্রহ মাত্র ১ রান। ফিরলেন আর্চারের ডেলিভারিতে। তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে জ্বলে ওঠার বার্তা দিলেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি দ্রে রাসের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং। ১৪ বলে ২৪ রান করে ডাগ আউটে ফিরলেন ক্যারিবিয়ান পাওয়ার হিটার। রাসেল যখন ফিরলেন তখন দলের রান ১৪.২ ওভারে ১১৫।

শেষ পাঁচ ওভারে দলের রানকে টেনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব বর্তায় অভিজ্ঞ মর্গ্যানের উপর। কামিন্স এসে ১০ বলে ১২ রান করে আউট হন। কিন্তু ২৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের মূল্যবান ইনিংসে ২০ ওভারে নাইটদের রান ১৭০-এর গন্ডি পেরোতে সাহায্য করেন সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটে ইংরেজ অধিনায়ক। তাঁর ইনিংসে ছিল ১টি চার এবং ২টি ছয়।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।