আবুধাবি: নিতিশ রানার ৮১ রানের অ্যাঙ্কর ইনিংস এবং সুনীল নারিনের প্রত্যাবর্তন ইনিংসে ভর করে দিল্লিকে রানের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া গিয়েছিল। কিন্তু প্লে-অফের দৌড়ে এগিয়ে যেতে সমান দায়িত্বশীল হতে হত দলের বোলারদের। নিরাশ করলেন না বোলাররা। ব্যাটসম্যানদের গড়ে দেওয়া মঞ্চে ছড়ি ঘোরলেন বোলাররা।

আর ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফরম্যান্সে দিল্লিকে ৫৯ রানে হারিয়ে বড় জয় তুলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১৯৫ রান ডিফেন্ড করতে নেমে এদিন শুরুতেই দিল্লি শিবিরে জোড়া ধাক্কা দেন সাড়ে ১৫ কোটির বোলার প্যাট কামিন্স। আর কামিন্সের দেখানো পথেই বল হাতে বিষাক্ত হয়ে ওঠেন মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী।

ব্যাট হাতে এদিন যদি নাইটদের নায়ক নিতিশ রানা এবং সুনীল নারিন হন, তাহলে বল হাতে এদিন নাইটদের হয়ে ম্যাচের সেরা অবশ্যই বরুণ। এদিন নিজের প্রথম দু’ওভারে আজিঙ্কা রাহানে এবং গত দু’ম্যাচের শতরানকারী ধাওয়ানকে ফিরিয়ে নাইট শিবিরে জয়ের গন্ধ এনে দেন অজি পেসার কামিন্স।

যদিও তৃতীয় উইকেটে শ্রেয়স আইয়ার-ঋষভ পন্তের ৬৩ রানের পার্টনারশিপে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দিল্লি। কিন্তু এরপর বরুণের বিষাক্ত স্পিনে ধস নামে দিল্লি শিবিরে। ৩৮ বলে শ্রেয়সের সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংসের যবনিকা পতন হয় বরুণের হাতেই।

এরপর একে একে পন্ত, হেটমেয়ার, স্টোইনিস, অক্ষরের উইকেট তুলে নিয়ে নাইটদের জয় নিশ্চিত করেন মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৫ রান তুলতে সমর্থ হয় দিল্লি। বরুণের ৫ উইকেটের পাশপাশি ৩ উইকেট নেন কামিন্স। একটি উইকেট ফার্গুসনের দখলে।

টস হেরে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ৬ উইকেটে ১৯৪ রান তোলে নাইটরা। মাত্র ৪২ রানে ৩ উইকেট খুঁইয়ে দিল্লির বিরুদ্ধেও এদিন বেকায়দায় পড়ে যায় নাইট ব্যাটিং লাইন-আপ। ৯ রানে ফেরেন ওপেনার শুভমন গিল। ১৩ এবং ৩ রানে ফেরেন যথাক্রমে রাহুল ত্রিপাঠী এবং দীনেশ কার্তিক।

এরপর শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে হঠাতই মরুঝড়। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৯.২ ওভারে নিতিশ রানা এবং সুনীল নারিনের জুটিতে ওঠে ১১৫ রান। মূলত এই জুটিতে ভর করেই লিগ টেবিলে দ্বিতীয়স্থানে থাকা দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জমি ফিরে পায় নাইটরা।

শক্তিশালী দিল্লি বোলিং লাইন-আপকে সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনে ৩২ বলে ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন নারিন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ৪টি ছয়। পাশাপাশি ওপেনে নেমে অ্যাঙ্কর ইনিংসে দলকে বড় রানে পৌঁছে দেন নিতিশ রানা। ১৩টি চার এবং ১টি ছয়ে ৫৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস আসে রানার ব্যাট থেকে।

শেষদিকে নেমে ৯ বলে ১৭ রান করেন অধিনায়ক মর্গ্যান। মূলত নারিন এবং রানার ব্যাটে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে দিল্লিকে ১৯৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় নাইটরা। এই জয়ের ফলে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটাই এগোল নাইটরা।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।