চণ্ডীগড়: চেন্নাই ম্যাচের পরই ঘুরে দাঁড়াল পঞ্জাব৷ সোমবার ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারাল প্রীতি জিন্টার দল৷ মোহালিতে ১৫১ রান তাড়া করে লোকেশ রাহুল ও ময়াঙ্ক আগরওয়ালের ব্যাটে সহজ জয় পায় কিংস ইলেভেন৷ সেই সঙ্গে লিগ তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলে পঞ্জাব৷

শনিবার চিপকে সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ১৬০ রান তাড়া করতে গিয়ে ১৩৮ রানে থেমে গিয়েছিল প্রীতি জিন্টার দল৷ কিন্তু এদিন ঘরের মাঠে ১৫০ রান অবলিলায় টপকে গেল কিংস ইলেভেন৷ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ক্রিস গেইলের উইকেট হারালে রাহুল ও ময়াঙ্কের সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে জিততে বেগ পেতে হয়নি প্রীতির দলকে৷ দ্বিতীয় উইকেটে রাহুল-ময়াঙ্ক ১১৪ রান যোগ করে সানরাইজার্সকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় কিংস ইলেভেন৷

মোহালির বাইশগজে এদিন দারুণ শুরু করেন পঞ্জাব বোলাররা৷ ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই জনি বেয়ারস্টোকে ডগা-আউটে ফিরিয়ে দেন মুজিব-উর রহমান৷ ইনিংসের শুরুতেই ওপেনিং পার্টনারকে হারিয়ে শান্ত হয়ে যান ওয়ার্নারও৷ পাওয়ার প্লে অর্থাৎ প্রথম ৬ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৭ রান তোলে হায়দরাবাদ৷ চলতি আইপিএলে পাওয়ার প্লে-তে এটাই সেরা বোলিং পঞ্জাবের৷

দ্বিতীয় উইকেটে ওয়ার্নার ও বিজয়শঙ্কর ৪৯ রান যোগ করে সানরাইজার্স ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু ব্যক্তিগত ২৬ রান বিজয় শঙ্কর ডাগ-আউটে ফেরায় চার বাড়তে থাকে ওয়ার্নারের উপর৷ স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব নিয়ে ইনিংসের হাল ধরেন বাঁ-হাতি ওপেনার৷ তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিং করে ৬২ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার৷

ইনিংসের অর্ধেক বল খেলে মাত্র একটি ছয় ও হাফ-ডজন বাউন্ডারি মারেন ওয়ার্নার৷ বিজয়শঙ্করের পর মহম্মদ নবি ও মনীশ পাণ্ডকে দ্রুত ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরে অশ্বিনরা৷ নবি ১২ ও পাণ্ডে ১৯ রান করে ডাগ-আউটে ফেরেন৷ দীপক হুডা ৩ বলে ১৪ রান না-করলে দেড়শোর গণ্ডি টপকাত না সানরাইজার্সের৷ একটি ছক্কা ও দু’টি বাউন্ডারি মারেন হুডা৷

রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই গেইলের উইকেট হারায় পঞ্জাব৷ একটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৪ বলে ১৬ রান করে ডাগ-আউটে ফেরেন গেইল৷ কিন্তু রাহুল ও ময়াঙ্কের মজবুত জুটি ভুবনেশ্বর কুমারদের ম্যাচ ফেরার সুযোগ দেয়নি৷ ময়াঙ্ক ব্যক্তিগত ৫৫ রানে সন্দীপ শর্মার বলে যখন ডাগ-আউটে ফেরেন, তখন পঞ্জাবের জেতার জন্য দরকার ছিল মাত্র ১৯ রান৷ এর মধ্যে অবশ্য ডেভিড মিলার ও মনদীপ সিংয়ের উইকেট হারায়৷ তবে শেষ পর্যন্ত ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন রাহুল৷ ৫৩ বলের ইনিংসে সাতটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি মারেন কিংস ইলেভেনের এই ডানহাতি ওপেনার৷ দলকে জিতিয়ে ম্যাচের সেরা পুরস্কার জিতে নেন রাহুল৷