সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: তাঁর পকেটে শূন্য। অপরের বিপদে আপদে আর্থিক সাহায্য করতে তিনি পারবেন না। কিন্ত তাঁর রয়েছে মানবিকতা, একটা সুন্দর হৃদয়। যেখানে বাস করে অনেক জন। কয়জনা? সত্যি তা বলতে পারবেন না। এই অগণিত মানুষের রোগ ভোগ থেকে আরোগ্য কামনায় দিনরাত গান গেয়ে চলেছেন রবীন রুইদাস।

রবীন রুইদাস পেশায় রাজমিস্ত্রির যোগানদার। মাঝে মাঝে রঙের কাজও করে থাকেন। দিন আনি দিন খাইয়ের সংসার। তবু গত কয়েকদিন ধরে তাঁর কীর্তন থামেনি। ঠিক সময় নিয়ে হাজির হয়েছেন হাওড়া জেলায় আমতার হরিহরতলায়। সেখানেই নিত্য গান গাইছেন গুটি রোগ থেকে মানুষের দ্রুত আরোগ্য কামনায়। রবীনের গানের এক এবং একমাত্র চাহিদা মানুষের জীবনরক্ষা। কীর্তনের মাধ্যমে তিনি সেই ভাবটাই ব্যক্ত করে চলেছেন ঠাকুর দালানে। ভগবানের ‘দিল কি দয়া’ হোক না হোক, তার ‘দিলে’ অনেক দরদ। হয়তো তাঁর বিশ্বাস তাঁর গানেই ঈশ্বরের দয়ে হবে। ফিরে চাইবেন ভক্তের দিকে। অসুখী মানুষ হবে সুখী।

‘হাওড়া জেলার কথা’ নামক সোশ্যাল গ্রুপে রবীনের এই অবাক করা মানবিক চেতনার ভাব বোধের কথা লিখেছেন সন্দীপ দেয়াশী। তিনি তাঁর ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে বেশ ব্যক্তি খোল নিয়ে মাথা নেড়ে দিব্যি বাজিয়ে চলেছেন। একজন মাইক নিয়ে গান গাইছেন। ওই গায়কই রবীনবাবু।

তাঁর কথাই ফেসবুকে ছোট্ট করে লিখেছেন সন্দীপ সান্যাল। তিনি তাঁর সোশ্যাল মাধ্যমে জানিয়েছেন, ”ঠাণ্ডা উপোস চলছে। বিগত কয়েক মাস পাড়ায় পাড়ায় ঘরে ঘরে বিভিন্ন গুটিজাত রোগ হচ্ছে। প্রকৃতি ঠাণ্ডা হওয়ার দরকার আছে। মানুষের এ থেকে শান্তি ও স্বস্তি রেহাইয়ের পথ দরকার। দুপুরে হয়ে গেছে শীতলা গান , সন্ধারাতে চলছে কীর্তন গান। গান গাইছেন রবীন, রুইদাস। উনি পেশা রাজমিস্ত্রির জোগান দেন। মাঝেমাঝে রং মিস্ত্রির কাজও করে।”

একই সঙ্গে তাঁর পোস্ট থেকেই জানা গিয়েছে ঘটনাটি আমতা, হরিহরতলার। পাশেই রয়েছে ব্রাহ্মন, মাহিষ্য পাড়া, নাপিত পাড়া, চুনড়ি পাড়া, ডোম পাড়া। এক কথায় পাত্র ,পরমানিক, হাজরা, পণ্ডিত মিলে এখানে একটি বারোয়ারি রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের সুস্থ থাকার কামনায় কীর্তনে মেতেছেন রবীনবাবু।

মূলত দিন দশেক বাদেই শীতলা পূজা। তার আগে রয়েছে সরস্বতী পূজা। তার আগে বিভিন্ন মন্দিরে এমন নাম কীর্তন হয়। কিন্তু রবীনদের মতো এমন মানুষদের কীর্তন করার সময় কোথায়? তার চেয়ে গায়ে গতরে খাটলে দুটো পয়সা আসবে সংসারে। নিজের সমস্ত দুঃশ্চিন্তা ভুলে সমগ্র জনজাতির সুকামনায় মেতেছেন রবীন।