পিয়ংইয়ংঃ  গোটা বিশ্ব লড়াই করছে মহামারী বিরুদ্ধে। আর এই পরিস্থিতিতেও মিসাইল পরীক্ষা থামাচ্ছেন না কিম জং উন। চলতি মাসে এই নিয়ে চারবার মিসাইল লঞ্চ করে উত্তর কোরিয়া। জানা যায় রবিবার পরপর দুটি মিসাইল ছোঁড়া হয় উত্তর কোরিয়া থেকে। দুটোই সঠিক ব্যালিস্টিক মিসাইল বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু মিসাইলগুলি কি ধরনের তা পিয়ংইয়ংয়ের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

তবে সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার তরফে জানানো হয়েছে যে, অতি-বৃহৎ রকেট উৎক্ষেপন করা হয়েছে। আর সেই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উন।

কিম জং উনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একদিন আগে রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে পিয়ংইয়ং কৌশল এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোর পরীক্ষা চালানো হয়। এই পরীক্ষা সফল ভাবে চালানো হয় বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ। রবিবার সকালে উত্তর কোরিয়ার উপকূলবর্তী ওনসান শহর থেকে স্বল্প পাল্লার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ৩০ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে উড়ে গিয়ে ২৩০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়া একটি সূত্র জানিয়েছিল। এ পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানায় কেসিএনএ।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, জাপানের জলসীমা পেরোতে পারেনি ওই মিসাইল। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পর দীর্ঘদিন চুপচাপ ছিল উত্তর কোরিয়া। কঠিন পরিস্থিতিতে এর যুদ্ধের মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছেন কিম জং উন।

সপ্তাহ খানেক আগে এভাবেই পরপর দুটি মিসাইল ছুঁড়তে দেখা গিয়েছিল উত্তর কোরিয়াকে। এরপরই উত্তর কোরিয়া জানিয়েছিল যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের চিঠি দিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আবেদন জানিয়েছেন।

আমেরিকার তরফ থেকেও সেই চিঠির কথা স্বীকার করা হয়। বিশ্ব মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ট্রাম্প ওই চিঠি দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, আমেরিকার ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসাবে পরিচিত জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে চটিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে হাত মেলাতে কেন উদ্যোগ নিলেন ট্রাম্প, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এর আগে বিশ্ব সংকটের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার এহেন মিসাইল উৎক্ষেপণের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।