প্রদ্যুৎ দাস, জলপাইগুড়ি: এ এক অন্য সকাল! দেবতা জ্ঞানে নিজের বাবা-মাকে পুজো করল এক ঝাঁক কচিকাঁচা। সামাজিক অবক্ষয় রুখতে জলপাইগুড়ির স্কুলের অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেন অভিভাবক থেকে শুরু করে এলাকার বিশিষ্টজনেরাও।

শনিবার সকালটা জলপাইগুড়ির সারদা শিশু তীর্থ স্কুলের কচিকাচাদের কাছে ছিল একটু অন্যরকম। এদিন সকাল-সকাল ছোট ছোট শিশুরা স্কুলের পোশাক পরে জলপাইগুড়ি মাসকলাইবাড়ি এলাকার মাঠে পৌঁছে গিয়েছিল। বাবা-মায়েরাই শিশুদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই মাঠে। মাঠেই অভিভাবকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু চেয়ার পাতা ছিল আগে থেকেই। নির্দিষ্ট সেই চেয়ারে বসে পড়েন একরত্তি খুদে পড়ুয়ার বাবা-মায়েরা।

বাবা-মায়েদের পায়ে ফুল রেখে সুন্দর জীবনের প্রার্থনা করে কচিকাঁচার দল। ছোট্ট হাতে বাবা-মায়েদের পায়ে তারাই দেয় চন্দনের ফোঁটা। নিজের বাবা-মাকেই ঈশ্বর জ্ঞানে পুজো দিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির খুদে পড়ুয়ার দল। পুজো শেষে তারাই বাবা-মায়েদের মিষ্টি মুখ করাল। মুখের মিষ্টি পরে আদরের সন্তানের মুখেই তুলে দিলেন অভিভাবকেরা। শনিবার নতুন এক সকাল দেখল জলপাইগুড়ির মাসকলাইবাড়ি এলাকা। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিনব এই প্রয়াসকে কুর্নিশ জানালেন প্রত্যেকে।

বিরল এই অনুষ্ঠান শেষে মাঠে বাবা-মায়েদের সঙ্গে বসে পাত পেড়ে প্রসাদ খেল পড়ুয়ারা। এদিন জলপাইগুড়ি শিল্প সমিতি পাড়ার সারদা শিশুতীর্থ স্কুলের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর ৩০ জন পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে।

সারদা শিশুতীর্থ স্কুলের এই প্রয়াসে খুশি অভিভাবকরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্কুল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আদরের সন্তানকে বড় করে তুলতে চেষ্টার কোনও কসুর করেন না কোনও বাবা-মাই। একাধিক ক্ষেত্রে সন্তান বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাবা-মায়ের প্রতি তাঁর কর্তব্য পালনে বিচ্যুত হন। সামাজিক এই অবক্ষয়ের নিদর্শন প্রায়ই চোখে পড়ে।

জলপাইগুড়ির শিল্প সমিতি পাড়ার এই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সেই বিষয়টিই নিজেদের উপলব্ধির মধ্যে এনেছেন। আর তাই তাঁদের স্কুলের বাচ্চাদের এই অবক্ষয়ের করাল গ্রাস থেকে দূরে থাকতে বদ্ধ-পরিকর তাঁরা। সেই কারণেই তাঁদের এই অনন্য প্রয়াস।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।