সৌমেন শীল, কলকাতা: পুজো এসেছে ঠাকুর দেখতে হবে প্যান্ডেলে ঘুরে ঘুরে। আরও বড় কথা হচ্ছে ঠাকুর দেখতে হবে রাত জেগে। তা না হলে লাইটিং তো দেখাই যাবে না। তাছাড়া দিনেরবেলা রোদের মধ্যে প্রচণ্ড কষ্ট হবে। মেক-আপ তো দেখাই যাবে না।

জনসংযোগ বাড়াতে পুলিশের হাতিয়ার পুজোর ফটোগ্রাফি

এই সকল কারণেই রাতের দিকে ভিড় বাড়তে থাকে শহরে মণ্ডপে মণ্ডপে। কিন্তু গভীর রাতে ভিড়ের মাঝে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে শিশুদের। যারা লাইটিং বা মণ্ডপসজ্জার মতো শিল্পকর্ম কিছুই বোঝে না। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে আসে তাঁদের আনন্দের সঙ্গী হতে।

পঞ্চমীর রাতে তখন ঘড়ির কাঁটা তিনটে ছুঁই ছুঁই। লোকে লোকারণ্য ভিআইপি রোড। সাধারণের জন্য শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো দেখার লাইন পড়েছে উত্তরে লন্ডনের আদলে তৈরি বিগবেনের সামনে থেকে। জনসমুদ্র না হলেও জনসমাগম বেশ ভালোই হয়েছে। মণ্ডপের মূল অংশে পৌঁছাতে গেলে পেরোতে হবে অনেকটা পথ। মাঝে আবার পড়বে অনেকগুলি দড়ির ব্যারিকেড। সেই সকল ধাপ পার করে পৌঁছান যাবে মহিস্মতি সাম্রাজ্যে। সেই গন্তব্যে পৌঁছেতে গেলে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে দর্শকদের। শিশুদের অবস্থা সঙ্গীন বললেও কম বলা হয়।

এই রকমই বেশ কিছু ছবি ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়। কেউ কেউ মারাত্মক অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে চেয়ে রয়েছে। কেউ আবার কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে। অনেকে পাড়ি দিয়েছে ঘুমের দেশে। কারোরই ইচ্ছে নেই দেবী দুর্গাকে দর্শনের। আরও ভালো করে বললে সর্বশক্তি মহামায়াকে নিয়ে করা শিল্পকর্মের প্রতি কোনও আগ্রহ নেই খুদে মনের। রাতে ঠাকুর দেখার জন্য বাড়িতে দুপুরে ঘুম পাড়িয়েছিল মা। কিন্তু, রাত জাগার জন্য যা যথেষ্ট ছিল না। তাছাড়াও ওই কচি বয়সে রাত জাগার জন্য কখনই বিকল্প হতে পারে না দুপুরের ঘুম। তবুও বাবা-মায়ের আনন্দের সঙ্গী হতে আসতেই হয় তাদের।