গরম তেলে পাঁচফোড়নের সুগন্ধ, শুকনো লঙ্কার ঝাঁজ। রান্নাঘরের সাইড বোর্ডে রাখা আধ ঢাকা দেওয়া শুকতোর বাটি থেকে ঘিয়ের মন ভরানোর গন্ধ – রান্নাঘর মানেই এই সব চেনাপরিচিত ছবি। যে রান্না ঘরের মাটিতে বসে মা-কাকিমারা গল্প করতে করতে বানিয়ে ফেলা একে পর এক সুস্বাদু রেসিপি, যা অনায়াসেই টেক্কা দিতে পারত যে কোনও পাঁচতারা হোটেলের স্পেশালিটি রেস্তরাঁকে। তবে কি তাঁদের সঙ্গে রান্নাঘরের সম্পর্ক শুধু হত নিয়মিত রান্নার। যে জায়গায় তাঁরা দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটাতেন সেই ঘরের ডেকর নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার কথা কখনও তাঁদের মনেও আসত না। বড়জোর দু’-তিন বছর অন্তর একবার চুন রং। ব্যস, এর থেকে বেশি প্রাধান্য এই ঘরের জন্যে বরাদ্দ ছিল না।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো বদল ঘটেছে বহু একঘেয়ে চিন্তাভাবনাতেই। আর এই বদলের হাত ধরেই রান্নাঘরও অন্দরসাজে নিজের একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ফ্ল্যাট অথবা বাড়িতে একটি সুন্দর সাজোনা, গোছানো, ওয়েল ইক্যুপড কিচেন তো নিঃসন্দেহে আপনার অন্দরমহলের ভ্যালু অ্যাডিশন।

১.তবে কিচেন ডেকর প্ল্যান করার আগে কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখা একান্তই গুরুত্বপূর্ণ। তবেই পাবেন একটি ফাংশনাল কিচেন। যাঁদের নতুন ফ্ল্যাটের কিচেন তৈরি হবে তাঁরা তো বটেই, যাঁরা ভাবছেন তাঁদের পুরনো কিচেনকে দেবেন এক নতুন লুক তাঁরাও এই চেকলিস্টে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।

২.প্রথমেই দেখে নিন আপনার রান্নাঘরের আয়তন কতটা। আয়তন খুব ছোট হলে লিভিং-ডাইনিং রুমের সঙ্গে রান্নাঘরের পার্টিশন ওয়াল ভেঙে ফেলুন। জায়গা অনেকটা বেশি লাগবে ওপেন কিচেনে।

৩.রান্নাঘরের আয়তন বড় হলে সেখানেই ব্যবস্থা করে ফেলুন ব্রেকফাস্টা কাউন্টার অথবা ডাইনিং অপশন। সেক্ষেত্রে আলাদা করে ডাইনিং টেবল অথবা ব্রেকফাস্ট টেবলের অপশন না রেখে কিচেনের সার্ভিং কাউন্টারকেই ব্যবহার করুন টেবল টপ হিসেবে। আর চেয়ারের চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করতে পারেন হাই বার স্টুল। জায়গাও কম লাগবে আর দেখতেও স্মার্ট লাগবে।

৪.কুকিং কাউন্টারের সামনের অংশে অন্তন আড়াই থেকে তিন ফুট উচ্চতা পর্যন্ত গ্লেজ় টাইলস লাগিয়ে নিন। এতে দেওয়াল নষ্ট হবে না। আর অটো ক্লিন চিমনি ইজ় আ মাস্ট।

৫.মডিউলার কিচেন বানাতে না পারলেও সেই আদলেই কিচেনের প্রয়োজনীয় আসবাব বিশেষ করে স্টোরিং স্পেস বানিয়ে নিন। সেক্ষেত্রে ফ্লোর স্পেস নষ্ট না করে দেওয়ালের গায়ে বানিয়ে নিন স্টোরিং ইউনিট। আর স্টোরিং ইউনিটের পাল্লা কাচের হলে মেন্টেন করতেও সুবিধে হবে আর কোথায় কী রাকা আছে তা মনে রাখাও সহজ হয়ে যাবে।

৬.ফ্রিজ, মিক্সার, টোস্টার, মাইক্রোওয়েভের মতো প্রয়োজনীয় গ্যাজেটস রান্না ঘরে হাতের কাছেই রাখুন। এতে রান্নার সময়ে সুবিধে হয়।

৭.রান্নাঘরের দেওয়ালের জন্যে সব সবয়ে ওয়াশেবল ওয়েল পেন্ট ব্যবহার করুন। আর মেঝের জন্যে অবশ্যই অ্যান্টি স্কিট টাইলস। রান্নাঘরে সব সময়ে চেষ্টা করুন উজ্জ্বল রং ব্যবহার করতে। বিভিন্ন রকমের মশলার রঙের থেকেও বেছে নিতে পারেন রান্নাঘরের দেওয়ালের রং।