সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: পুজোর বাকি প্রায় ১৩০ দিন৷ তার আগেই শুরু হয়ে গেল খুঁটি পুজো৷ তবে বেলগাছিয়া সাধারণ দুর্গোৎসব কমিটি একটু অন্যভাবে এই খুঁটি পুজোর উদযাপন করল৷

সামনে বর্ষাকাল৷ আর শহর কলকাতা বর্ষাকাল মানেই রাস্তার খুঁটির খোলা তারে হাত লেগে মৃত্যুর ঘটনা৷ সেই মর্মান্তিক মৃত্যু আটকাতেই আর সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এলাকার বিদ্যুতের খুঁটিগুলোকে সাজিয়ে তুললো ক্লাব সদস্যরা৷ তবে শুধু তারাই নন, এই কাজে হাত লাগালেন স্থানীয় বাসিন্দারাও৷ উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক মালা সাহাও৷

রাস্তার ধারের বিদ্যুতের খুঁটিগুলো অবস্থা বেহাল৷ তার বেরিয়ে থাকা, মরচে পড়া খুঁটি গুলোকে মেরামত করলেন ক্লাব কর্তারা৷ মঙ্গলবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এলাকা সাজিয়ে তুলতে তেসরা জুন থেকে পথে নামলেন তারা৷

পরিবেশ দিবসকে মাথায় রেখে এই উদ্যোগ ক্লাবের সদস্যদের৷ শুধু মেরামতই নয়, রাস্তার ধারের খুঁটিগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুললেন তাঁরা৷ চলল রং তুলি দিয়ে শিল্পকর্মও৷

বেলগাছিয়ার মন্মথ দত্ত রোড, ইন্দ্র বিকাশ বিশ্বাস রোড সহ একাধিক এলাকায় এই কাজ চলে৷ একের পর এক খুঁটি সাজিয়ে তোলা হয়৷ এই ভাবেই নিজেদের খুঁটিপুজো সারলেন বেলগাছিয়া সাধারণ দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যরা৷ এই অভিনব প্রয়াস নিয়ে বক্তব্য রাখেন ক্লাব সদস্য জয়দীপ সাহা৷ তিনি বলেন ছেলে মেয়ে মিলে এই খুঁটি পুজোতে সামিল হয়েছেন এলাকার মানুষ৷ উপস্থিত রয়েছেন বিধায়কও৷

শিল্পকর্মেই থেমে থাকেনি তাদের সচেতনতার বার্তা৷ খুঁটিকে নিয়ে তাঁরা রীতিমতো ছড়া লিখে ফেলেছেন৷ সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে এই ছড়া ব্যানার হিসেবে টাঙিয়ে রেখেছেন তাঁরা৷
ব্যানারে লেখা রয়েছে-

রাস্তাঘাটে পড়ে আছি আমরা কত খুঁটি।
অত্যাচার আর অবহেলা ধরছে চেপে টুঁটি।
মাথার ওপর সাইন বোর্ড আর বডির ভেতর তার।
জং ধরা গা, জল জমলে বিপদ সবার।
সারা বছর খাড়া থাকি আর ওয়াক থু খাই।
খুঁটি হয়েও খুঁটি পুজোয় ব্রাত্য থেকে যাই ৷৷