কলকাতা:  ঢাকে পড়ল কাঠি। নবকলেবরের সঙ্গে মাতৃ আরাধনায় মাতল শহরবাসী। রথের এই পূণ্যতিথিতে আপামর বাঙালি দু’হাত জোড়ে আহ্বান জানাল শক্তিরূপিণীকে। পাড়ায় পাড়ায় রথের দড়ি টানার সঙ্গে চলল খুঁটিপূজার ধুম। দক্ষিণ কলকাতার দেশবন্ধু পার্কে প্রতিবারের মত এবারও জাঁকজমক করে খুঁটিপূজা করা হল। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার ৷

এবছর দেশপ্রিয় পার্কের দূর্গোৎসবে তাঁদের পাশে রয়েছে স্টার সিমেন্ট (সিএমসিএল)। এই সংস্থার কর্ণধার হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “এই বছর দুর্গা পূজায় দেশপ্রিয় পার্কের পাশে থাকতে পেরে  খুব ভালো লাগছে। এবার বাংলাকে নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছি”।KHUTI-PUJO-02

পুজো আসতে আর মাত্র নব্বই দিন। চলছে জোর কদমে তারই পরিকল্পনা। কী হবে এবার প্যান্ডেলের থিম? কেমন হবে মাতৃমূর্তি? দফার দফায় চলছে তারই পরিকল্পনা। তবে এখনই পুজোর থিম নিয়ে কথা বলতে নারাজ দেশবন্ধু পার্কের উদ্যোক্তরা। দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজোর গুলির মধ্যে অন্যতম দেশবন্ধু পার্কের পুজো। পুজোর পাঁচটা দিন লম্বা লাইনের বহরই বলে দেয় দেশবন্ধু পার্কের পুজোর ক্রেজ কতটা। তাই সাসপেন্সটা বজায় রাখতে চাইছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। নিজের পাড়ার খুঁটিপুজো সেরে দেশবন্ধু পার্কে হাজির মন্ত্রীমশাই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “ আজ আকাশে-বাতাসে পুজো পুজো রব। তবে আজকাল পুজোটা কর্পোরেট হয়ে গিয়েছে৷” তবে সাবেকি পুজোয় বিশ্বাসী মন্ত্রী জানান, “ প্যান্ডেলের থিম আমার ভালো লাগে, কিন্তু মা দুর্গার মূর্তিটা ছোট থেকে যেমনটা দেখে এসেছি সেটা ছাড়া ভাবতে পারি না৷”

অন্যদিকে মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, “ কলকাতায় খোলামেলা জায়গা দিনে দিনে কমে আসছে। তাই পার্ক গুলিকেই বেছে নিচ্ছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। তবে পার্কের সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয় সেইদিকে নজর রাখতে বলেছি দেশবন্ধু পার্কের কর্তা ব্যক্তিদের৷” সেই সঙ্গে শারদীয়ার আগাম শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিলেন সবাইকে।

তবে  শুধু রথ বা খুঁটি পুজা নয়, আজ খুশির ইদও। একদিকে ফুল, মালা, সিঁদুর পরিয়ে খুঁটিপূজা চলছে অন্যদিকে সাদা পোশাক, মাথায় টুপি পড়ে চলছে নমাজ পড়া। সব মিলিয়ে আজ খুশির আমেজ ভাসল কলকাতা।

মানসী সাহা