স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: এই বাড়িতে সময় কাটিয়েছেন তিনি৷ কেটেছে তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই বৈপ্লবিক দিনগুলো৷ আগুন ঝরা সেসময়ের মুহূর্তগুলো আটকে রয়েছে এই বাড়ির দেওয়ালে৷ এই বাড়ির কুয়ো থেকে জল তোলার সেই মুহূর্তও যেন থমকে রয়েছে৷ কিন্তু আজ সবই ইতিহাসের পাতায়৷ শহিদ ক্ষুদিরামের স্মৃতি বিজড়িত বাঁকুড়ার রানীবাঁধের বাড়ি আজ ধংস্বের মুখে৷

তবে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেও এতদিন বিশেষ লাভ হয়নি৷ উদাসীনতার আড়ালেই রয়ে গিয়েছে শহিদ ক্ষুদিরামের এই বাড়িটি৷ রবিবার হয়ত সেই অপেক্ষার যবনিকা পতন হল৷ বাঁকুড়ার রাণীবাঁধের ছেঁদাপাথরের ইতিহাস পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন স্থানীয় বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি, এমনই আশ্বাস মিলল৷

আরও পড়ুন : পুজোকমিটিগুলিকে আয়কর নোটিশ, শহরে ধর্ণায় বসবে তৃণমূলের ‘বঙ্গ জননী’

রবিবার শহিদ ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতি রক্ষা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে এই আশ্বাস দেন স্থানীয় বিধায়ক৷ এদিন তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা আনাদোলনের সময়কালে বেশ কিছু দিন এখানে ক্ষুদিরাম বসু আত্মগোপন করেছিলেন। সেই সময় যে কুয়োতে তিনি জল নিতেন সেটি থাকলেও তাঁর ব্যবহৃত বাড়িটি প্রায় ভগ্নস্তুপে পরিণত হয়েছে।

‘ছেঁদাপাথর ও ক্ষুদিরাম বসু’ এই বিষয়টি যাতে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয় সেবিষয়েও তিনি উদ্যোগী হবেন বলে জানান। উল্লেখ্য, শাল, মহুয়া আর পলাশে ঘেরা বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের রানীবাঁধের বারিকুল থানার গ্রাম ছেঁদাপাথর। ১৯০৮ সাল নাগাদ এখানে কিছুদিন আত্মগোপন করে ছিলেন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম৷ এখানের এক পাহাড়ি গুহায় বসে তিনি বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি বোমা তৈরী করতেন বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন : জুতোর মালা পরে প্রতারণার কথা স্বীকার তৃণমূল কাউন্সিলরের ভাইয়ের

পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে বাম আমলে রানীবাঁধ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে তৈরী করা হয় শহিদ ক্ষুদিরাম উদ্যান, তৈরী হয় দ্বিতল পর্যটক আবাস। এদিন বীর শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর ১১১ প্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদানের পাশাপাশি লোক সংস্কৃতি মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।