বুয়েনস আয়ার্স (আর্জেন্টিনা): সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার পিছনে সৌদী আরবের ভাবী যুবরাজ মহম্দম বিন সলমনের যোগের কথা মানতে নারাজ মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র৷ বুয়েনস আয়ার্সে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন সেক্রেটরি ওফ স্টেট মাইকেল পম্পেও জানিয়ে দেন কাসোগি হত্যায় সৌদীর ভাবী যুবরাজ ইন্ধন রয়েছে এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি৷ ফলে তাঁকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানোটা বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে জানান পম্পেও৷

পম্পেও এদিন বলেন, ‘কাসোগি হত্যা তদন্ত রিপোর্টের প্রতিটা পাতা আমি পড়েছি৷ এই হত্যা যখন হয়েছে তখন যুবরাজ সেখানে ছিলেন না৷ তদন্ত রিপোর্টে মেলেনি হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকার নির্দিষ্ট প্রমাণ৷’ এই দাবি, সৌদীর সঙ্গে মার্কিনীদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই৷

এর আগেই অবশ্য সৌদি আরবের সরকারি আইনজীবী বলেছেন, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা৷ তার সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমানের কোনও যোগ নেই৷

আরও পড়ুন: ৬৩ বিলিয়নের ঘাটতি মেটাতে মোদী সরকারের প্রস্তাবে ‘না’ চিনের

আদালতে সে আরও জানায়, ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল খাসোগিকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনার। বদলে খাসোগির সাথে ধস্তাধস্তি পর তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া হয়৷

চলতি বছরে ২রা অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর খুন হন ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগি৷ তার আগে থেকেই নিজের লেখার মাধ্যমে খাসোগি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক বলে প্রসিদ্ধ ছিলেন। সাংবাদিক খাসোগি খুনের পর পরই বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে৷ এই খুনের নেপথ্যে সৌদি ভাবী রাজার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়৷

আরও পড়ুন: পদ্মাপারে ভোট: ভুয়ো ভোটারের তালিকা দিয়ে হিরো আলম বাতিল

নিন্দুকেদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে যুবরাজ মোহাম্মদ কিছুই জানতেন না তা ভাবা অসম্ভব। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর দাবি, ‘সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য সন্তোষজনক নয়।ও রা বলছে যে খাসোগি তাদের বাধা দিয়েছিলেন বলে হত্যা করা হয়, কিন্তু এ খুন আসলে ছিল পুর্বপরিকল্পিত৷’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষের তরপে যাই বলা হোক, খাসোগি হত্যার নির্দেশ সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই এসেছে৷’ সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্তের দাবি করা হয় তুরস্কের তরফে৷

আদালতে সরকারি কৌসুলি এই হত্যার ঘটনায় ১১জনকে অভিযুক্ত করেন৷ এদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের আবেদনও করা হয়। মামলাটি আদালতে পাঠানো হয়েছে৷ তদন্ত চলছে সন্দেহভাজন আরও দশজনের বিরুদ্ধে।
মার্কিন সেক্রেটরি ওফ স্টেট মাইকেল পম্পেও কাসোগি হত্যায় সলমানের হাত মানতে না চাইলেও তাকে নিশানা করে হত্যার অভিযোগে ১৭ জন সৌদি কর্মকর্তার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

জানা যায়, যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম যুবরাজ সালমানের প্রাক্তন উপদেষ্টা সউদ আল-কাহতানি। তিনি এ ঘটনার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ৷