তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: খরা প্রবণ বাঁকুড়া জেলার কৃষকদের বিকল্প কৃষি পদ্ধতির সন্ধান দিতে উদ্যোগ নিল রাজ্য কৃষি দফতর৷ আই.আই.টি খড়্গপুরের সহায়তায় বড়জোড়ায় আবাসিক কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই শিবিরে খড়্গপুর আই.আই.টি-র কৃষি ও খাদ্য দফতরের তরফে অধ্যাপক কে.এন তেওয়ারী নিজে উপস্থিত থেকে বিকল্প কৃষি পদ্ধতি ও বিকল্প চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

খরাপ্রবণ বাঁকুড়ার অন্যতম কৃষিজ সম্পদের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। প্রধান উৎপাদিত ফসল ধান। এর পাশাপাশি জেলার দক্ষিণের ব্লক সিমলাপাল, রাইপুর, সারেঙ্গা, তালডাংরার কিছু অংশে ব্যাপকভাবে আলু ও কুমড়োর চাষ হয়। এখানের জমিতে জলধারণ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। তাছাড়া গত কয়েক বছরে বৃষ্টিপাতও সেভাবে হচ্ছে না।

কিছু অংশের জমিতে কংসাবতী সেচ প্রকল্প ও ডিভিসি প্রকল্পে সেচের সুযোগ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সেচের জলের অভাবেই কৃষি কাজে ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন চাষীরা। ফলে কৃষি নির্ভর আঞ্চলিক অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য কৃষি দফতরের এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন চাষীরা।

এই শিবিরে উপস্থিত কৃষক মহাদেব মণ্ডল বলেন, “আই.আই.টি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানলাম। যা আগে আমাদের জানা ছিলনা। আমরা ওনাদের কাছ থেকে যা জেনেছি তা গ্রামে গিয়ে অন্যান্য চাষীদের গিয়ে বোঝাবো।”

বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি শুভাশিস বটব্যাল এপ্রসঙ্গে বলেন, “খরাপ্রবণ বাঁকুড়া জেলার মাটিতে জলধারণ ক্ষমতা কম। বৃষ্টির জল পড়ে তা গড়িয়ে যায়। সেকারণে ‘ওয়াটার ম্যানেজম্যান্টে’র উপর নির্ভর করে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কৃষি কাজের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে চাষীদের নতুন পদ্ধতির ধারণা দিতে আই.আই.টি খড়্গপুর থেকে বিশেষজ্ঞরা এসেছেন। তাঁরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি, সেচ ও সারের ব্যবহার সম্পর্কেও চাষীদের অবহিত করছেন।” এই পদ্ধতির সফল রুপায়ণ হলে জেলার কৃষকরা উপকৃত হবেন বলে তিনি মনে করেন।

খড়্গপুর আই.আই.টি-র বিভাগীয় অধ্যাপক কে.এন তিওয়ারি বলেন, ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রক, কৃষাণ কল্যাণ মন্ত্রকের সহায়তায় প্রতি বছর কৃষকদের জন্য বছরে ১২ থেকে ১৪টি এই ধরণের বিশেষ কৃষিপ্রশিক্ষন শিবির অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের সব কটি জেলাতে এই ধরণের শিবিরে জৈব সারের ব্যবহার, সেচের ব্যবহার ও উন্নত কৃষি পদ্ধতি বিষয়ে পাঠ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান বলেই তিনি মনে করেন।