ঢাকা: খবরটা আসতেই বিএনপি নেতা সমর্থকরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। স্বস্তির হাওয়া বইল ফিরোজা ভবনে। দলনেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া করোনা মুক্ত। দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ২৭ দিন পর তিনি করোনা নেগেটিভ হলেন তিনি।

তবে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার চালানোর অবস্থান থেকে সরেনি বিএনপি। তাঁর বিদেশ গমন সংক্রান্ত সরকারি নথি তৈরি ও ছাড়পত্র আদায়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে আবেদন আগেই করা হয়েছে। যে কোনওভাবেই খালেদা জিয়াকে ঢাকা থেকে লন্ডনে নিয়ে যেতে চায় বিএনপি। খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপির অপর প্রধান তারেক রহমান ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকেন। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণার শাস্তি রয়েছে বাংলাদেশে। তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারের চোখে পলাতক।

টানা ২৭ দিন বিএনপি সুপ্রিমো খালেদা জিয়া করোনা সংক্রমণের জন্য ঢাকার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানান নেত্রী করোনা মুক্ত। বলা হয়, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মোট তিনবার খালেদা জিয়ার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সর্বশেষ পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

চিকিৎসকরা আরও জানান আগে ৩ থেকে ৪ লিটার অক্সিজেন লালন। এখন ১ থেকে ২ লিটার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তিনি সামান্য খাবার খেতে পারছেন। স্যালাইন চলছে। তার ফুসফুসের ভিতরে জল জমছে।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এরপর গত ১৪ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল দুই দফায় তার নমুনা পরীক্ষা করা হলেও তখন ফল পজিটিভই আসে। অবশেষে শনিবার তার নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

জিয়া চ্যারিটেবল সোসাইটির আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে অভিযোগ এনেছিল তার ভিত্তিতে দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর আদালতে দোষী প্রমানিত হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁকে জেলে যেতে হয়। জেলে অসুস্থ হলে হাসপাতালে কড়া সরকারি নিরাপত্তায় চিকিৎসা হয় খালেদা জিয়ার। গতবছর করোনা সংক্রমণ বাংলাদেশ ছড়াতে শুরু করলে বর্ষীয়ান নেত্রীকে মুক্তি দেওয়া হয়। ঢাকার গুলশনে ফিরোজা ভবনে ফেরেন তিনি। তবে তাঁর বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে।

চলতি করোনা সংক্রমণের মাঝে খালেদা জিয়া সংক্রমিত হন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল বাড়িতেই। অবনতি হওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। এর পরেই তাঁকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য সরকারকে চাপ দেয় বিএনপি ও জিয়া পরিবার। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে চলা সরকার মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করছে বলে জানায়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলের সুযোগ আছে কিনা তা নিয়ে মতামত প্রদান শেষে রবিবার এই সংক্রান্ত নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হবে।

বিএনপি সূত্রে খবর, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় তাঁর পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.