তিরুবনন্তপুরম: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত আরও এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ধৃত এই জঙ্গির নাম সৈয়দ আবদুল মাতিন। শনিবারই তাকে আদালতে তোলা হবে।

সিমুলিয়া মাদ্রাসায় ট্রেনিং নেওয়া ১৫ জনের মধ্যে এই আব্দুল মাতিন অন্যতম। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডে জড়িতদের মতই সে সিমুলিয়া ও মপকিমনগর মাদ্রাসায় ট্রেনিং নিয়েছে। তার সঙ্গে নাসিরুল্লা, সইদুল, জয়দুলদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাড়ি অসমের বড়পেটার চাপারবোরি এলাকায়।

২০১০ থেকেই জেএমবি জঙ্গিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেইসময় কালিয়াচকের শেরশা মাদ্রাসায় ছিল আবউল মাতিন। বিস্ফোরণের পরই সে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নিয়ে কেরলের মাল্লাপুরম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। আটদিনের ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার আদালতে তোলা হবে।

কয়েকদিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত দুই জঙ্গিকে, কদর কাজি ও সজ্জাদ আলি৷

গত সোমবার রাজ্য পুলিশের সঙ্গে হুগলিতে যৌথ অভিযান চালায় এনআইএ৷ ওই অভিযানে আরামবাগের ডোঙ্গল এলাকা থেকে কদর কাজি ও সজ্জাদ আলি পাকড়াও করা হয়৷

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পুলিশের নজর এড়াতেই ওই এলাকায় রাজমিস্ত্রি সেজে গা ঢাকা দিয়েছিল এই দুই জামাত-উল-মুজাহিদিন জঙ্গি৷ তাদের জীবনযাপনও ছিল অত্যন্ত সাধারণ মানের৷ পরে গোপনসূত্রে খবর পেয়ে তাদের ধরে ফেলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা৷ এদিনই ধৃত দুই জঙ্গিকে তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিশেষ এআইএ-র বিশেষ আদালতে৷ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই জঙ্গির এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর দুপুরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ির মালিক নুরুল হাসান চৌধুরী তৃণমূলের স্থানীয় নেতা। তবে তিনি ওই বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন নদিয়ার বাসিন্দা শাকিল আহমেদকে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ভাড়াটে শাকিল। পরে মারা যায় ওই বাড়ির আরও এক বাসিন্দা সোভান মণ্ডল৷ সোভান-ই ছিল দ্বিতীয় জঙ্গি। তৃতীয় জঙ্গি আবদুল হাকিম বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়।