নয়াদিল্লি: মোদী জমানায় বিশেষ সাফল্য পেয়েছে খাদি প্রডাক্ট সমূহ। ২০১৪ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর এই শিল্পের বিকাশ আকাশ ছুঁয়েছে বললেও কম বলা হবে। কারণ খাদি অ্যান্ড ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রিজ কমিশনের(কেভিআইসি) তথ্য অনুসারে গত পাঁচ বছরে এই শিল্প ১৬৪ শতাংশ উন্নতি করেছে।

এই বিশেষ সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগ এবং সাহায্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন কেভিআইসি-র চেয়ারম্যান বিনয় কুমার সাক্সেনা। যে সকল কারণের জন্য খাদি শিল্পের এই উন্নতি হয়েছে তার পিছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সবকিছুর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের বিশেষ প্রশংসা করেছেন বিনয়বাবু।

খাদি শিল্পের উন্নতির শতকরা হার কিছুতেই দুই সংখ্যায় হচ্ছিল না। ২০১৫ সালে তা প্রথম রেকর্ড গড়ে। ওই বছর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ করে বৃদ্ধি হয়েছে খাদি শিল্পের। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে সেই বৃদ্ধির হার কিছুটা কম ছিল। সেই বছরে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল। বিক্রিত বৃদ্ধির হারে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি অর্থবর্ষে পাঁচ হাজার কটি টাকার খাদি সামগ্রী বিক্রির লক্ষ্য মাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেভিআইসি চেয়ারম্যান বিনয় কুমার সাক্সেনা।

আগে কেন সাফল্য দেখছিল না খাদি? এই প্রশ্নের জবাবে বিনয়বাবু জানিয়েছেন যে বাজারে বহু নকল দ্রব্য ছেয়ে গিয়েছিল। যার কারণে প্রকৃত খাদির প্রোডাক্ট থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন ক্রেতারা। নকল মাল কিনে ঠকে যাওয়ার কারণে খাদির প্রতিও অনীহা তৈরি হয়েছিল। যা এই শিল্পের উন্নতির পথে অন্যতম অন্তরায় হয়ে ছিল। কিন্তু নকল সামগ্রীর কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হতেই চিত্রটা বদলাতে শুরু করে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্টোর খোলার কারণেও বিক্রি বেড়েছে।

তবে এই বিক্রি বৃদ্ধির পিছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ সহযোগিতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেভিআইসি চেয়ারম্যান বিনিয় মুকার সাক্সেনা। তিনি দাবি করেছেন যে ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসের তিন তারিখে মন কি বাত অনুষ্ঠানে খাদি শিল্প নিয়ে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম রেডিও অনুষ্ঠানে খাদি সামগ্রী কেনার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানানো খাদি শিল্পের বিপণনে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে খাদি সামগ্রী কেনা এবং উপহার দেওয়ায় উতসাহ যোগানোটাও এই শিল্পের উন্নতিতে সহায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিনয়বাবু।

প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগী হওয়ার কারণে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও খাদি সামগ্রি কিনতে আগ্রহ দেখাতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন কেভিআইসি চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, “এক সময়ে রেল বছরে পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকার খাদি সামগ্রী কিনতো। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের পরে সেই সংখ্যা এখন ৮০ থেকে ৯০ কোটি। একবারে ১৫ কোটি টাকার অর্ডারও আমরা রেল থেকে পেয়েছি।” প্রধানমন্ত্রীর দৌলতেই যুব সমাজের কাছেও খাদি সামগ্রী জনপ্রিয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিনয়বাবু। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও এখন খাদির জামাকাপড় ব্যবহার করছে। সেই সংখ্যাটাও কিছু কম নয়, কেভিআইসি-র হিসেবে তা কমপক্ষে চার লাখ। বিভিন্ন পুরসভাতেও কর্মীদের জন্য খাদির তৈরি সামগ্রী কেনা শুরু হয়েছে।

এই সকল কারণের জন্য বিসেষ সাফল্য মিলেছে বলে দাবি করেছে কেভিআইসি। গত পাঁচ বছরে সাফল্যের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্টোর এবং আউটলেট খোলা হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে ৮,০৬১ গুলি কেন্দ্র থেকে খাদির সামগ্রী বিক্রি করা হয় বলে জানিয়েছেন কেভিআইসি চেয়ারম্যান বিনয় কুমার সাক্সেনা।