তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘খাদি চিরন্তন, খাদি পরম্পরা-খাদি ঐতিহ্যবাহী, খাদি সবার সেরা’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাঁকুড়ায় জোনাল স্তরীয় খাদি মেলা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি এবং বস্ত্র দফতরের খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বসেছে এই মেলা৷ ১৬ টি জেলার ১১০ জন শিল্পী তাদের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাদি, সিল্ক, বস্ত্রবয়ন, আরইজিপি ও পিএমজিপি প্রকল্পে উপকৃত ক্ষুদ্র ও হস্ত শিল্পীদের উৎপাদিত সামগ্রী প্রদর্শন ও বিপণনের জন্য জোনালস্তরে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলার উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী তারা যাতে বিক্রি করতে পারেন সেদিকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই মেলায় যথেষ্ট সহযোগিতা করা হচ্ছে। এই মেলার ফলে ক্রেতা সরাসরি শিল্পীর কাছ থেকে উৎপাদিত কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এই মেলায় অংশ নিয়ে খুশি শিল্পীরাও। এরপর ভবিষ্যতে আরও বেশি কাজের সুযোগ পাবেন বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে মেলায় আসা সাধারণ মানুষও খুশি। বস্ত্র ও হস্ত শিল্পের বিপুল সম্ভারের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরণের খাবারের স্টলও।

মেলায় অংশ নেওয়া সাবিমা বেগম বলেন, বাড়িতেই বসে থাকতাম। সরকারি উদ্যোগে কাজ শিখে এখানে নিজেদের তৈরি পোশাকের স্টল দিয়েছি। আশা করি আরও এগিয়ে যেতে পারব। পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের বাঁকুড়া জেলা আধিকারিক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, এখানে ক্রেতারা শিল্পীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। গত বছর এখানে এই মেলায় ৮০ জন শিল্পী যোগ দিয়েছিলেন৷ তাদের এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকার বিক্রি হয়েছিল। এবার ১১০ জন শিল্পী এসেছেন৷ এবার ১২ দিনের এই মেলাতে দেড় থেকে দু’কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী বিক্রি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেন, এখানে মধ্যস্থতাকারীর কোন জায়গা নেই। উৎপাদকের কাছ থেকেই সরাসরি ক্রেতারা কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। শুধুমাত্র বাঁকুড়া জেলা নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পীরা এসে এখানে স্টল দিয়েছেন। এই মেলার মাধ্যমে সহজেই হস্ত ও কুটির শিল্পীদের কাজের ভালো বিজ্ঞাপন হচ্ছে বলেও তিনি জানান।