লন্ডন: প্রায় এক সপ্তাহ ধরে KFC-তে চলছে মুরগি ক্রাইসিস৷ মুরগির অভাবে ধুঁকছে KFC-র প্রতিটি দোকান৷ অর্ধেকের দোকান তো বন্ধই হয়ে গিয়েছে৷ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দোকানগুলি বন্ধ ছিল৷ গত সপ্তাহে ডেলিভারি কনট্রাক্ট DHL-কে দেওয়া হয়৷ অভিযোগ, তারপর থেকেই শেষ হতে থাকে মুরগির জোগান৷

আগে KFC-র মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ব্যাকলগ মেটানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কাজ বন্ধ ছিল৷ “প্রতিদিন অনেক ডেলিভারি হয়৷ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে৷ কয়েকটি ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ অন্যগুলো থেকে মেনু কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বা কম সময়ের জন্য খোলা হচ্ছে৷” বলেছেন তিনি৷ DHL-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জন বোল্টার জানিয়েছেন, সাপ্লাইয়ের সমস্যা হওয়ার জন্য তিনি দুঃখিত৷ এর জন্য কে এফ সি ও গ্রাহকদের থেকে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি৷ বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গোটা বিষয়টি স্বাভাবিক করে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে৷

এই সব ঘটনার পর KFC একটি ওয়েব পেজও খুলেছে৷ সেখানে দেখা যাবে সংস্থার কোন দোকান কোথায় ও কতক্ষণ খোলা রয়েছে৷ গ্রাহকরা এর ফলে সুবিধা পাবেন বলে মনে করেন তিনি৷

কেন এই সমস্যা?
১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত KFC-তে মুরগি পাঠাতো বিডভেসট৷ কিন্তু DHL-এর সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে সমস্যা৷ অনেক আউটলেটে মুরগির সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ KFC-কে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, বিডভেস্ট থেকে DHL-এ পরিবর্তন করা তাদের কাছে মস্ত বড় ভুল৷ এর ফলে ২৫৫টি চাকরি চলে গিয়েছে৷ জানিয়েছেন GMB-র জাতীয় অফিসার মিক রিক্স৷ বিডভেস্ট বহুদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোম্পানি৷ DHL-কে সুযোগ দিতে গিয়ে একশোরও বেশি আউটলেট বন্ধ রাখতে হয়েছে KFC-কে৷ সংস্থা বুঝতে পেরেছে তারা কী ভুল করেছে৷ কিন্তু এখন খুব দেরি হয়ে গিয়েছে৷ DHL-এ তরফ থেকে বলা হয়েছে, কিছু অপারেশনাল ইস্যুর জন্য মুরগি সাপ্লাই করা সম্ভব হয়নি৷

KFC-র কত খরচ পড়ল?
KFC-র মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারবেন না৷ কিন্তু KFC-র বেশিরভাগ আউটলেট চলে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের তত্ত্বাবধানে৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, প্রতি দিন KFC-র প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হচ্ছে৷