কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বাংলা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির আগুন জ্বলছে। গত কয়েকদিন আগে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন বিজেপি কর্মী এবং এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত গোটা বাংলা। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্যের পরিস্থিতির জন্যে খোদ মমতা বন্দ্যপাধ্যায়কে দায়ী করছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

এরপরেই এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠায় বিজেপি। এরপরেই মন্ত্রকের তরফে নবান্নে অ্যাডভাইসরি নোট পাঠানো হয়। একদিকে যখন নবান্নে এহেন ‘পরামর্শ’ পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অন্যদিকে তখন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে বাংলার বিষয়ে আলোচনা সারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। সন্দেশখালি সহ গোটা বাংলার বিস্তারিত রিপোর্ট তাঁর কাছ থেকে নেন তাঁরা।

এরপরেই এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর বিস্ফোরক মন্তব্য, প্রয়োজন হলে অবশ্যই রাষ্ট্রপতি শাসন হতেই পারে। বৈঠক শেষে তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, তাহলে কেন্দ্র বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের কথাই ভাবছে। অন্যদিকে রাজ্যপালের এহেন মন্তব্যে ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিদ্যাসাগর কলেজে ভেঙে যাওয়া মূর্তি ফের পুনপ্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সেখান থেকেই রাজ্যপালের বক্তব্য নিয়ে তোপ দাগেন।

তাঁর মন্তব্য, রাজ্যপালকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাঁর ভাষণকে কখনই করি না। পুরো বিষয়টি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলে। শুধু তাই নয়, তাঁর মতে সবার একটা সংবিধানিক সীমা রয়েছে। সেটা সবার মনে রাখা প্রয়োজন বলে রাজ্যপালকে কার্যত আক্রমণ শানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

এরপরে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা নিয়ে মমতাকে প্রশ্ন করা হলে কার্যত আরও রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, কেউ চুড়ি পরে বসে নেই। চুরি আমরা হাতেও পরি কাজেও লাগাই। তবে মন্তব্য আর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক পার্থক্য রয়েছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। না থেমে তাঁর হুঁশিয়ারি, বাংলার মায়েরা কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।

প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সোমবার রাজ্যপাল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করার বিষয়টি আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও আলোচনাও হয়নি।” কিন্তু এরপরে এক সংবাদ মাধ্যমে কেশরীনাথ ত্রিপাঠী বলেন, “হতেও পারে রাষ্ট্রপতি শাসন। যখন দাবি উঠবে, তখন কেন্দ্র নিশ্চই ভেবে দেখবে।” রাজ্যপালের এই মন্তব্যেই যাবতীয় জল্পনা শুরু হয়েছে। আর তাতে ক্ষুব্ধ মমতা।

প্রসঙ্গত, সন্দেশখালিকে কেন্দ্র করে যাবতীয় ঘটনার সূত্রপাত। গত শনিবার বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। এরপরে প্রায় চার দিন কেটে গেলেও সেখানে আজ পরিস্থিতি থমথমে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেটিং। সন্দেশখালির ঘটনার মূলত অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানের খোঁজে চলছে তল্লাশি।