কলকাতা: বিদায়বেলায় রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিতি আশা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। তেমনটাই জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে।

সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল কিছুদিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছেন, এই বিতর্কিত মন্তব্য করে তাঁর অপ্রীতির পাত্র হয়েছিলেন। “মাননীয় রাজ্যপাল ভেবেছিলেন রাজ্য ছাড়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বিদায় জানানোর জন্য আসবেন, ত্রিপাঠীজি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই সৌজন্যতার রাজনীতিটুকু আগে আশা করেছিলেন, যেহেতু তিনি এই রাজ্যে ৫ বছর কাটিয়েছেন”, ওই ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমেই যা পৌঁছে যায় সংবাদমাধ্যমের কাছে।

পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকাকালিন বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ হয় ত্রিপাঠীর। তবে বিদায়ী রাজ্যপাল বলে বসেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুষ্টিকরণের রাজনীতির ফলে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তিনি একথাও বলতে চান যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার মতো ক্ষমতা থাকলেও তাঁর উচিত ছিল নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রনে রাখা।

যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়। বিরোধী দল সিপিএম ও কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলে যে অসময়ে এই ধরণের মন্তব্য করলেন তিনি।

রবিবার রাজ্য ছাড়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা না হলেও কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে হাওড়া স্টেশনে বিদায় জানাতে রাজ্যের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন দুই মন্ত্রী অরূপ রায় এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া স্টেশন থেকেই নিজের বাসভূমি এলাহাবাদের দিকে রওনা হন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল।

সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল এই রাজ্যে তাঁর অভিজ্ঞতাকে “টক-মিষ্টি” হিসাবেও বর্ণনা করেন। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষাব্য়বস্থা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করতে শোনা যায় রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপালকে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।