সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : চলতি বছরের বাজেটে কেরোসিন বণ্টনে ভরতুকি তুলে নেওয়া হবে তা বলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতেইসংকট এবার কেরোসিন তেল ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন এটাও যদি ভরতুকি তুলে নেওয়া হয় তাহলে মানুষ এবার কেরোসিনের থেকেও মুখ সরাতে বাধু হবেন। একান্তই না হলে কম কিনবে মানুষ। পাশাপাশি রয়েছে আরও অনেক সমস্যা এর বিরুদ্ধেই প্রতীকী প্রতিবাদে নামলেন কেরোসিন তেল ডিলাররা।

এদিন কেরোসিন ডিলাররা বিপদের মধ্যে রয়েছে তা বোঝাতে খাদ্য ভবনের সামনে থেকে মুখে স্যালাইনের টিউব রেখে প্রতিবাদ জানান। ছিল কেরোসিন ঢালার ফ্লানেল। এভাবেই প্রতিবাদে নামেন তাঁরা। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের খাদ্য ভবন থেকে এই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন কয়েক হাজার কেরোসিন তেল ডিলার। ডিলারদের অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে অন্যতম, তাদের কাছে কেরোসিন পৌঁছাচ্ছে না নিয়মিতভাবে। ফলে মানুষকে চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে পারছেন না। ফলে এখন থেকেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন

এই বিষয়ে তাঁরা চিন্তির এই কারনেই যে, ভরতুকি তুলে নিলে এই সমস্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন তাঁরা। কেরোসিন ডিলারদের এই প্রতিবাদে সামিল হন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার কেরোসিন ডিলাররা দাঁড়িয়ে বেকারত্বের মুখে। কেরোসিন না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাধারন মানুষদেরও। দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে গ্যাসের দাম। কোন দিকে যাবে সাধারণ মানুষ? গ্যাসের দামেও ছেঁকা। সেখান থেকে সরে এসে কেউ কেরোসিনে রান্না করতে গেলেও তো এবার পকেটে টান পড়বে। আর সেটা খুব শীঘ্রই হবে। আমরা সাধারণ মানুষ ও কেরোসিন ডিলারদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিবাদে এসেছি।’

বাজেট প্রস্তাব পেশ করার সময় এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা আগামী অর্থবর্ষে কেরোসিনে ভরতুকির জন‌্য কোনও অর্থ বরাদ্দ রাখেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে কেরোসিনে আর মিলবে না ভরতুকি। মার্চে শেষ হওয়া অর্থবর্ষে কেরোসিন বাবদ সরকারের তরফে ২৬৭৭.৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ঘটনা হল পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীরা সংসদে সরব হলেও কেরোসিনের দাম নিয়ে কেউই কথা বলেনি।

প্রসঙ্গত, ভরতুকির খরচে রাশ টানার পথে যান নির্মলা সীতারামন। খাদ্য, সার, এলপিজি ও কেরোসিন তেলের ওপর সরকার যে ভরতুকি দেয়, সেটা ৪৩ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় বাজেটে। চলতি বছর এই খাতে ৫.৯৬ লাখ কোটি টাকা খরচ হলেও আগামী বছর ৩.৩৬ লাখ কোটি খরচ করতে চাইছে সরকার। এই বছর মূলত খরচ বেড়েছে করোনাকালে আশি কোটি মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার ফলে।

আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের আওতায় এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে পাঁচ কেজি অতিরিক্ত খাদ্যশস্য রেশন দোকানের দ্বারা বণ্টন করা হয়েছিল আশি কোটি মানুষের মধ্যে। ফেব্রুয়ারিতে ২০২০-তে ২.২৭ লাখ কোটি টাকা ভরতুকি খাতে খরচ করার হিসেব দিয়েছিল সরকার কিন্তু বাজেটে যে সংশোধিত হিসেব দেওয়া হয়েছে, তাতে মোট ৫৯৬ লাখ কোটি খরচ করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রীর কথায় তাঁরা শুধু খরচা, খরচা ও খরচা করার পথে গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের আর্থিক দুর্দশার নিরসনে। এর জেরে আর্থিক ঘাটতি গিয়ে হয়েছে জিডিপি-র ৯.৫ শতাংশ যেটা সাড়ে তিন শতাংশ করার লক্ষ্য থাকে সরকারের।

আগামী অর্থবর্ষে তাই খরচের ওপর কিছুটা রাশ টানতে চাইছে সরকার। এর মধ্যে অন্যতম হল খাদ্য ভরতুকির খরচ কমানো। ৪.২২ লাখ কোটি থেকে সেটা ২.৪২ লাখ কোটি করতে চায় সরকার। একই ভাবে কাটছাঁট করা হচ্ছে সার ও পেট্রোলিয়াম ভরতুকির উপর।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।