তিরুবনন্তপুরম: স্কুলে টিপ পরে আসা চলবে না। একই সঙ্গে হাতের মধ্যে কোনও তাবিজ থাকলেও স্কুলে প্রবেশাধিকার থাকবে না পড়ুয়াদের। কারণ, এই বিষয়গুলির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ধর্ম।

এমনই চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিয়েছেন কেরলের পালাক্কাড় জেলার এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। স্কুলের পক্ষ থেকে পেশ করা এই নির্দেশিকা ঘিরে ক্ষভ তৈরি হয়েছে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের মধ্যে।

নির্দেশিকা জারি করে প্রধান শিক্ষক পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে পড়ুয়াদের মধ্যে যেন কোনও প্রকারের ধর্মীয় চিহ্ন না দেখা যায়। স্কুলের মধ্যে ধর্মের কোনও স্থান দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে পড়ুয়াদের যুক্ত থাকার বিষয়টি কোনও ভাবেই তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

শিশুদের মনের মধ্যে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক মানসিকতা চাপিয়ে বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিভাবকেরা। পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের টিপ পরতে বা তাবিজ পরতে না দিলে তাদের মনে এখন থেকেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ জন্ম নেবে বলে দাবি করেছেন এক অভিভাবক। অন্য এক অভিভাবক বলছেন, “স্কুলের শিক্ষক-অভিভাবক বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়টি নির্দেশিকা হয়ে যাবে তা ভাবতেই পারিনি।”

ভারতীয় সংবিধানে সকল মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। সকলের অধিকার রয়েছে নিজের মতো ধর্মাচারণ করার। তাহলে একটি স্কুলের পক্ষ থেকে কেন বলপূর্বক পড়ুয়াদের উপরে এমন নির্দেশিকা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? প্রশ্ন তুলেছেন এক অভিভাবক। একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠান এই ধরনের নির্দেশিকা জারি করলে ভারতের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হবে। ভারত একটি বৈচিত্রময় দেশ। এরূপ নিষেধাজ্ঞা সেই বৈচিত্রের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলেও দাবি করেছেন এক অভিভাবক।