ওয়েবডেস্ক: পুজোর মরসুমে সামনে এল এক ভয়ঙ্কর তথ্য। একই পরিবারের ৬ জনকে খুন করার অপরাধে গ্রেপ্তার এক জলি জোসেফ নামে এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে কেরালার কোঝিকোড়ে। গ্রেপ্তারের পর সেই গৃহবধূকে জেরা করে হতবাক পুলিশ। জেরার পরেই প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, শুধু ৬ জনকে খুনের পরও চুপ করে থাকতে পারেননি জলি। তিনি খুন করতে এগিয়েছিলেন আরও দুই শিশুকেও।

এ ঘটনা কোনও একদিনের ঘটনা না। অভিযোগ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে প্ল্যানমাফিক ভাবেই খুন করা হয়েছে ওই ৬ জনকে। ২০০২ সালে মারা যায় রোজোর মা আন্নাম্মা, সন্দেহ এটাই জলির প্রথম খুন। তাঁর স্বামী টম মারা যান ২০০৮ সালে। রয় মারা যান ২০১১ সালে। এক বছরের শিশু ও তার মা ফিলি মারা যান ২০১৬ সালে। পরপর এতগুলি মৃত্যুর তদন্তে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে যায় পুলিশ। কবর থেকে দেহ তুলে শুরু হয় তদন্ত।

কোনও কিনারা না পেয়ে যখন তদন্তের কালঘাম ছুটছে পুলিশের। সে সময় জলি নিজেই স্বীকার করে নেন খুনের কথা। তাঁর স্বীকারোক্তিতে নড়ে ওঠে গোটা দেশ। এত নৃশংসতা সম্ভব ! এই তদন্তের মধ্যেই পুলিশি জেরায় উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য। এই ছয়জনের পর আরও দুই শিশুকেও একই পদ্ধতিতে খুন করতে চেয়েছিলেন জলি।

এই ঘটনার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি কেজি সিমন জানিয়েছেন, জলি আগে যেভাবে সকলের ওপর বিষ প্রয়োগ করেছিল সেই একইভাবে খাবারে সায়ানাইড মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছিল দুই শিশুকেও। কিন্তু তাঁরা বেঁচে যায়। পুলিশের সন্দেহ এভাবেই দিনের পর দিন সায়ানাইড দিয়ে স্লো পয়জিং-এর মাধ্যমে খুন করা হয়েছিল পরিবারের বাকিদেরকেও।

এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় শুধু জলি না, এম এস ম্যাথু ও প্রাজিকুমার নামে অপর দুই জনকেও গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। এদের মধ্যে প্রাজিকুমার একটি সোনার দোকানে কাজ করেন, সন্দেহ তিনিই এই সায়ানাইড সরবরাহ করত। অন্যদিকে এম এস ম্যাথু জলি জোসেফের বন্ধু বলে পরিচিত ছিল। এই দুজনের সঙ্গেই জলি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে শুধুমাত্র সম্পত্তির লোভেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে ধন্দে পুলিশও।