তিরুঅনন্তপুরম: কেন্দ্রীয় সরকারের ঠিক করে দেওয়া এনপিআর-এর মাধ্যমে নয়। জনগণনা হবে আগের নিয়মেই। সরকারি ভাবে ঘোষণা করল কেরালার বামফ্রন্ট সরকার। একইসঙ্গে জনগণনা করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কেরল সরকারের তরফে সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানিয়েছে পিনারাই বিজয়নের সরকার।

কেরালায় এনপিআর বাস্তবায়ন করা হবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। এমনকী রাজ্য সরকারের কোনও কর্মী যদি এনপিআর-এর কোনও কাজ করেন তবে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন’ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজয়ন। আর এবার সাফ জানালেন, এনপিআর নয়। কেরলে জনগণনার কাজ চলবে আগের নিয়মেই। আর জনগণনার কাজ চালাতে কেন্দ্রীয় সরকারকেও কেরলের তরফে সবরকমভাবে সাহায্য করা হবে বলে জানাল পিনারাই বিজয়নের সরকার।

কেরল প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগেই কেরল পুলিশ রাজ্য সরকারকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিল। এনপিআর-এর কাজ শুরু হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করেছিল কেরল পুলিশ। রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের থেকে সেই সতর্কবার্তা পেয়ে এনপিআর নিয়ে কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। কেরলে কোনওভাবেই এনপিআর-এর কাজ করা হবে না বলেও জানান তিনি। এবার জানালেন কেরলে জনগণনার কাজ হবে আগের নিয়মেই।

ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হিসেবে কেন্দ্রের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে কেরল সরকার। এবার এনপিআর নিয়েও সরকারিভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জানাল কেরল। বামশাসিত কেরল সরকারের যুক্তি, এনপিআর নিয়ে এখনও মানুষের মধ্যে একাধিক সংশয়ের জায়গা রয়েছে। আর তাই মানুষের মন থেকে সেই সংশয় পুরোপুরিভাবে না কাটলে রাজ্য সরকারও এনপিআর সংক্রান্ত কোনও কাজ করবে না।

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়েও একইভাবে কেন্দ্র-বিরোধিতায় সরব বামশাসিত কেরল। একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি কেরলও জানিয়েছে, সেরাজ্যে কেন্দ্রের ওই দুই আইন কার্যকর করা হবে না। কেরলই প্রথম রাজ্য বিধানসভাতেও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করিয়েছে। পরে কেরলের পথে হেঁটেছে কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাব সরকারও। এবার পশ্চিমবঙ্গও একই পথ অনুসরণ করবে বলে সোমবারই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৭ জানুয়ারি বাংলার বিধানসভাতেও নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে প্রস্তাব পাশ করানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা