কোচি: একে রামে রক্ষে নেই, তায় সুগ্রীব দোসর৷ একদিকে বৃষ্টি থেমেছে, অন্যদিকে মহামারি আকারে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে কেরল৷ রবিবার বিকেল থেকেই আকাশ একটু পরিস্কার হয়৷ আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় সকলেই স্বস্তির শ্বাস ফেলেন৷

কিন্তু সমস্যা দেখা দিতে পারে অন্য জায়গায়৷ আর বৃষ্টি না হলে ধীরে ধীরে বন্যার জল নামবে বলে আশা৷ তখনই বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে পরিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে দেখা দিতে পারে মহামারী৷ এমনই আশঙ্কা করছেন সরকারি কর্তারা৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী পি কে শৈলজা জানিয়েছেন, শনিবার থেকে বৃষ্টি কমলেও চিন্তায় রেখেছে মহামারী৷ বন্যার জেরে জলাধারগুলি জলের তলায়৷ জলাধারের জলের সঙ্গে বন্যার জল মিশে যাওয়ায় নানা ধরনের জলবাহিত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

তবে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে সবকটি পুরসভাকে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে৷ বিলি করা হবে পানীয় জল৷ যত গুলি এলাকায় সম্ভব ওই পানীয় জলের গাড়ি বা প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷

তবে বৃষ্টি থামলেও কেরলের দু এক জায়গায় ভারি বর্ষণের সতর্কতা জারি করে রেখেছে আবহাওয়া দফতর৷ তবে লাল সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে আগেই৷ আর বৃষ্টি না হলে বন্যার জল ধীরে ধীরে সরবে বলে প্রশাসন জানাচ্ছে৷ তবে কেরলের অধিকাংশ জেলা এখনও জলের তলায়৷

দু লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে৷ তাই ত্রাণ শিবিরগুলিতে রোগ ছড়িয়ে পড়লে তা ভয়ঙ্কর আকার নেবে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের৷ আটই আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত কেরল৷

কেরল স্বাস্থ্যদফতরের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিক অনিল বাসুদেবন জানান, ইতিমধ্যেই তিন জনের চিকেন পক্স ধরা পড়েছে৷ তাদের অন্যত্র সরানো হয়েছে৷ তিরুঅনন্তপুরম থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে আলুভা এলাকায় এদের চিহ্নিত করা যায়৷ তৎক্ষণাত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন৷

জল বাহিত ও বায়ু বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন৷ বিশেষত ত্রাণ শিবির গুলিতে একসঙ্গে এত মানুষ থাকার ফলেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়েতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷

কেরলে এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় ৩৬৭ জনের মৃত্যু৷ সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ গৃহহীন৷ তিন হাজারের উপর ত্রাণ শিবির৷ ২২ টি হেলিকপ্টার ও উপকূলরক্ষীবাহিনীর ১১৯ টি বোট যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে৷