স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বনধের নামে এরাজ্যে সিপিএম গুন্ডামি করেছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার গঙ্গাসাগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “একটা বাসে বোম মেরে সস্তায় পাবলিসিটি। এদের রাজনৈতিক মৃত্যু হওয়া দরকার।” একইসঙ্গে বাংলার বাম নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি তুলনা করলেন কেরলের নেতৃত্বকে।

বামেদের ডাকা বনধে এদিন সকাল থেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। জায়গায় জায়গায় রাস্তা অবরোধ, রেল অবরোধের জেরে ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। বারাসতের কাছে হৃদয়পুর স্টেশনে রেল লাইনে কৌটো বোমা রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। একাধিক জায়গায় গাড়ি, বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এদিন সেই প্রসঙ্গেই মমতা বলেন, “সিপিএমকে দেখে আমার খারাপ লাগছে এই জন্য যে, ওদের আদর্শ বলে আর কিছু নেই। যদি ন্যূনতম আদর্শবোধ থাকত তাহলে ট্রেন লাইনের নীচে বোমা রেখে গুন্ডামি করত না।এর থেকে কেরলের সিপিএম ভাল। তবু ওখানে কিছু মতাদর্শ বেঁচে আছে।”

তোপ দেগে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারের উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না। তাই গুন্ডামি করে ভেঙে দিচ্ছে সব।” এঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মমতা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ঠিক করে আন্দোলন কর। বাংলার সরকার, শাসকদলও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। কিন্তু এভাবে হিংসাপূর্ণ আন্দোলনকে ধিক্কার জানাই।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “প্রতিটা বনধ ব্যর্থ হচ্ছে। তাও বছরে ৪টে করে বনধ ডেকে দেওয়া হচ্ছে। এই করতে করতে পার্টিটা সাইনবোর্ডে এসে ঠেকেছে।”

এদিন যাদবপুরে ধর্মঘটের মিছিল থেকে গ্রেফতার হয়েছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। সুজনবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এত দিন দূরবীন দিয়েও সিপিএমকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। আজ পেয়েছেন। ওঁর কথায় স্পষ্ট রাজ্যে ধর্মঘট সর্বাত্মক।”