তিরুঅনন্তপুরম: কলেজের ম্যাগাজিনে দলিত, বিফ ও ফ্যাসিবাদ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা যাবে না৷ কোকরাঝাড়ের নাদাপুরম গভর্মেন্ট আর্ট ও সায়েন্স কলেজ কর্তৃপক্ষের এহেন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পড়ুয়ারা৷ শুরু হয়েছে বিক্ষোভ৷ যদিও পড়ুয়াদের চাপে নতিস্বীকারে নারাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ৷

দিন কয়েক আগে কলেজের এক ছাত্রী ম্যাগাজিনে একটি আর্টিকেল লেখে৷ ওই ছাত্রীর অভিযোগ কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই লেখা থেকে কিছু শব্দ বাদ দিতে বলে৷ সেই সঙ্গে জানিয়ে দেয় দলিত, বিফ এবং ফ্যাসিবাদ জাতীয় শব্দ প্রয়োগ করা যাবে না৷ এতেই বেঁকে বসে কলেজ পড়ুয়ারা৷ তারা সাফ জানিয়ে দেয় কলেজের সিদ্ধান্ত তারা মানবেন না৷ বিক্ষোভে সামিল এক পড়ুয়া জানান, ‘‘কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের কন্ঠরোধ করতে চাইছে৷ কিন্তু আমরা চুপ করে বসে থাকবো না৷ কলেজ কর্তৃপক্ষের তুঘলকি সিদ্ধান্ত আমরা বরদাস্ত করব না৷’’ পড়ুয়ারা জানিয়েছেন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পযন্ত বিক্ষোভ চলতে থাকবে৷

এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রাজনীতির বিষয়ে লিখতে লিখতে অনেক ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা লক্ষণ রেখা পাড় করে ফেলছে৷ সমালোচনার চূড়ান্ত পযায়ে চলে যাচ্ছে তারা৷ তাই পড়ুয়াদের সমালোচনাকে নিদিষ্ট গন্ডির মধ্যে বেঁধে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ এম জ্যোতিরাজ এনডিটিভিকে জানান, ‘‘অনেক ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের লেখনী মানুষের ভাবাবেগকে আঘাত করে ফেলছে৷ তাদের সমালোচনা থেকে বাদ যাচ্ছেন না সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিরাও৷ জাতীয় প্রতীককে অসম্মানিত করছে তারা৷ তাই সময় এসেছে একটা লক্ষণ রেখা টেনে দেওয়ার৷ ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

তিনি আরও বলেন, ম্যাগাজিনটি দিন দিন রাজনৈতিক ম্যাগাজিনে পরিণত হচ্ছে৷ এই সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি৷ তবে আমরা কোন ভাবেই বাক স্বাধীনতায় লাগাম টানছি না৷

ম্যাগাজিনের কিছু বিষয়বস্তু নিয়ে এর আগে ফ্যাসাদে পড়তে হয়েছিল আরও একটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে৷ ব্রেনান কলেজের ম্যাগাজিনে একটি কাটুন আঁকা হয়েছিল৷ যেখানে সিনেমা হলে এক কপোত-কপোতীকে যৌন মিলনরত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল৷ পিছনে ছিল জাতীয় পতাকা৷ এই ছবি প্রকাশের পরেই হইচই পড়ে যায়৷ জাতীয় পতাকার অবমাননার দায়ে ম্যাগাজিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল কিছু ডানপন্থী সংগঠন৷