নয়াদিল্লি: সরকার এখনও দিল্লি লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়নি ঠিকই, কিন্তু ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেই রাস্তায় হাঁটতে পারে সরকার, এমনই বার্তা দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, রাজধানীতে পাঁচ জনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে ২০ জন লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা কমিয়ে এনে করা হল ৫ জন।

নিজের বক্তৃতায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন, কিছুদিনের জন্য ভোরবেলায় মর্নিং ওয়াক বন্ধ রাখতে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, আমরা এখনই লক ডাউন করছি না, কিন্তু নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তা করা হতে পারে।

জনসাধারণের জমায়েত প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল জানাচ্ছেন, ৫ জন অথবা তার বেশি লোক জমায়েত হতে পারবে না রাজধানী শহরে। যদি ৫ জন লোকের বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের মধ্যে কমপক্ষে ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

এছাড়াও তিনি ঘোষণা করেছেন, দিল্লি সরকার বিধবা, প্রবীণ নাগরিকদের এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের এপ্রিল মাসের পেনশনের দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তার সরকার বিনামূল্যে রাত্রিবাস ও খাবারের ব্যবস্থা করবে।

বর্তমানে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। একধাক্কায় ৩০০ পার করে ফেলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। শনিবার সন্ধ্যেবেলায় সংখ্যার বিচারে ৩২৪ জন ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

দেশের এই অবস্থায় করোনা রুখতে রবিবার ১৪ ঘণ্টা জনতা কার্ফু জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও সবকিছু লকডাউন করে দেওয়া হবে কিনা সেই বিষয়ে সরকারি তরফে বিস্তারিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে মারণ এই ভাইরাসের থাবা থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একযোগে কাজ করে চলেছে কেন্দ্র-রাজ্যগুলি। এই অবস্থায় জনতা কার্ফু তথা এই অঘোষিত বন্ধ সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সকলেই সমর্থন জানিয়েছেন সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে।