নয়াদিল্লি: রাজধানীতে ফের কেজরির সরকার। পরপর ৩ বার কেজরিওয়ালের উপরই ভরসা রাখলেন দিল্লিবাসী। আর বিপুল এই সাফল্যের পর কেজরির মুখে ‘হনুমানজি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা-জ্ঞাপন। স্ত্রী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে নিয়েই কেজরির স্লোগান ‘ভারত মাতা কি জয়’। বাদ গেল না ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’-ও। সব শেষে সবাই মিলে বলে উঠলেন ‘বন্দে মাতরম’। সব মিলিয়ে পাহাড়-প্রমাণ সাফল্যের পরও কেজরির পা মাটিতেই। দিল্লিবাসীকেই সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন আপ প্রধান।

পুঁজি বলতে গত ৫ বছরের কাজ। তা নিয়েই দিল্লির বাজি জিতলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। হেলায় ওড়ালেন গেরুয়া শিবিরকে। জামানত জব্দ করে অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিলেন কংগ্রেসকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কাজে বাজি-মাত কেজরির। দিল্লির ৭০ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টিতেই এগিয়ে আম আদমি পার্টি। মাত্র ৭টিতে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থীরা। তবে ভোটের ফল গোণা শেষে বিজেপির আসন-সংখ্যা আর নীচে নামতে পারে। এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড তাতে সম্ভবত একটি আসনও পাচ্ছে না কংগ্রেস।

‘আকাশজোড়া’ এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেজরিওয়াল নিজেই। সাফল্যের ভাগীদার তাঁর স্ত্রীও। আজ কেজরিওয়ালের স্ত্রীর জন্মদিন। আম আদমির সামনেই স্ত্রী সুনীতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর। ধন্যবাদ জানালেন বজরংবলীকেও। কয়েকদিন আগেই বজরংবলীর কাছে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন হনুমানজি। বিপুল এই সাফল্যের পর কেজরিওয়াল বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার। বজরংবলীর দিন। আজ তিনি দিল্লির উপর কৃপা করেছেন। এভাবেই আগামী পাঁচ বছর দিল্লিকে দেখবেন হনুমানজি’।

কাজেই এল না বিজেপির ধর্মীয় বিভাজনের নীতি। গেরুয়া শিবিরের সব হিসেব একাই ওলট-পালট করে দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একার কাঁধেই বিজেপির যাবতীয় আক্রমণ সামাল দিয়েছেন কেজরি। দিল্লি ভোটের প্রচারে মোদী-শাহরা প্রায় গোটা মন্ত্রিসভাকেই প্রচারে নামিয়েছিলেন।

দিল্লিতে ভোটের প্রচারে নেমে বিজেপি নেতারা তুলোধনা করেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। কখনও সন্ত্রাসবাদী তকমা জোটে কখনওবা জোটে চক্রান্তকারীর তকমাও। অশুভ শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছেন বলেও কেউ কেউ তোপ দাগেন কেজরিকে। এর উপর শাহিনবাগ আন্দোলন নিয়েও কেজরিকে নিশানা করেন বিজেপির একের পর এক নেতা-মন্ত্রীরা।

উপর্যুপরি এই আক্রমণেও থেমে থাকেননি কেজরি। বরং লক্ষ্যে অবিচল থেকে কাজের নিরিখে ভোট দিতে আবেদন করে গিয়েছেন দিল্লিবাসীকে। কেজরিওয়ালকে এবারও নিরাশ করেনি দিল্লি। পরপর ৩ বার আম আদমি পার্টির উপরই দিল্লি শাসনের ভার তুলে দিয়েছেন জনতা।