স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইসলামপুরের দাড়িভিট স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে হিংসার ঘটনায় একাধিক প্রাণ গিয়েছে। যার প্রতিবাদে গত বুধবার ১২ ঘণ্টার বনধ ডেকেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি।

সেই বনধ ঘিরেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে হিংসার ছবি। শাসক-বিরোধী দুই দল পরস্পরকে দোষারোপ করছে। কিন্তু এই উপায়ে কি শাস্তি পাবে দাড়িভিট কাণ্ডের প্রকৃত দোষীরা? বিচার পাবে মৃত রাজেশ বা তাপসের পরিবার? প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক কাজি মাসুম আখতার।

যাদবপুরের কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠ-এর প্রধান শিক্ষক হলেন কাজি মাসুম আখতার। মুকুটে রয়েছে রাজ্যের সেরা প্রধান শিক্ষকের তকমা। শিক্ষারত্ন সম্মান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে এবং সমাজসেবী হিসেবে অনেক সংস্কার করতে চেয়ে প্রবল প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। কপালে জুটেছে লাঞ্ছনা, ছাড়তে হয়েছে নিজের ভিটে।

রাজ্য সরকারি কর্মী হওয়ার সুবাদে বনধের দিন মানতে হয়েছে রাজ্য সরকারের নির্দেশ। তবে নিজেকে বনধ বিরোধী বলেই দাবি করেন কাজি মাসুম আখতার। তবে বনধ বিরোধিতায় তিনি বলেছেন, “বনধের দিনেই নয়। বনধের আগের ও পরের দুদিনও সরকারি কর্মীদের কর্মস্থলে হাজিরা বাধ্যতামূলক,নতুবা শাস্তি । এহেন কর্ম সংস্কৃতির উদ্যোগ সত্যিই কি বিশ্বে কোথাও আছে?”

বনধ সফল না ব্যর্থ তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এই বিষয়ে কাজি মাসুম আখতার বলেছেন, “বনধ সফল বা ব্যর্থ যাই হোক, দু’জন ছাত্রের প্রকৃত হত্যাকারীদের আদৌ শাস্তি হবে তো?” বিষয়টি নিয়েই কেবলই রাজনীতি হবে বলে আশংকা করছেন কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক। এক্ষেত্রে রয়ছে তাঁর মনে রয়েছে সিঁদুরে মেঘের সুদীর্ঘ ইতিহাস।

কলকাতার বন্দর এলাকার এক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ছিলেন কাজি মাসুম আখতার। তিনি জানিয়েছেন যে মাদ্রাসা এবং মুসলিম সমাজের উন্নতির জন্যেই ওই স্কুলের চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। পড়ুয়াদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানো, রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন এবং বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখানোর অভিযোগে তাঁকে পড়তে হয় ধর্মগুরুদের রোষানলে। চাকরি যায়, সেই সঙ্গে জোটে প্রবল প্রহার এবং বদনাম।

সেই ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাঁর মনে বেশ উজ্জ্বল। ইসলামপুরের দাড়িভিট স্কুলের ঘটনা তা ফের ফিরে এসেছে তাঁর মনে। তিনি বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে যা হয়েছিল তা কথায় বর্ণনা করা যায় না। সেই অভিযুক্তদের কোনও শাস্তি হয়নি।” সেই কারণেই দাড়িভিট স্কুলের অভিযুক্তদের শাস্তির বিষয়ে যথেষ্ট সন্দিহান কাজি মাসুম আখতার।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।