স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ‘কাটমানি’ ফেরতের দাবী উঠলো বাঁকুড়ার সোনামুখীতে। রবিবার বিকেলে সোনামুখী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ঝিলিক দত্তের সাঁকো গোড়ার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান অসংখ্য সাধারণ মানুষ। যদিও বিক্ষোভের আগাম আভাস পেয়েই বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যান শাসক দলের ওই কাউন্সিলর৷

সোনামুখী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ঝিলিক দত্ত বামফ্রন্ট সমর্থিত ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে নির্বাচিত হন৷ ভোটের এক বচরের মধ্যেই অবশ্য শিবির বদল করেন তিনি৷ যোগ দেন তৃণমূলে৷ বাঁকুড়ার সোনামুখীর পৌরপ্রধান সুরজিৎ মুখার্জ্জীর ‘ঘনিষ্ট’ হিসেবে পরিচিতি কাউন্সিলর ঝিলিক দত্ত৷

বিক্ষোভকারীদের দাবী, কাউন্সিলর ঝিলিক দত্ত বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘কাটমানি’ তুলে চলেছেন৷ ওয়ার্ডের গরীব খেটে খাওয়া মানুষের সরকারি প্রকল্পে বাড়ি করে দেওয়ার নাম করে তোলা হচ্ছে এই টাকা। এই অবস্থাতে কেউ বাড়ি পেয়েছেন আবার কেউ পাননি বলেও অভিযোগ। এই অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যা দেখে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবীতে এদিন কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা৷

এদিন ‘কাটমানি’র টাকা ফেরৎ চেয়ে কাউন্সিলরের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে আসা রুপা খাঁ বলেন, ‘‘মায়ের গয়েনা বন্ধক দিয়ে বাড়ি তৈরির জন্য কাউন্সিলরকে সাড়ে পঁচিশ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। আজও বাড়িও তৈরি হয়নি, টাকাও ফেরৎ পাইনি।’’ একই কথা লতিকা ঘোষেরও। তিনিও একই পরিমাণ টাকা নিজের কানের গয়েনা বিক্রি করে কাউন্সিলরকে দেওয়ার পরেও তার বাড়ি তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ৷

অভিযুক্ত কাউন্সিলর বাড়িতে না থাকায় তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোনামুখীর পৌরপ্রধান সুরজিত মুখার্জী বিক্ষোভকারীদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ বিক্ষোভকারীরা ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নয় বলে দাবি তাঁর৷ তিনি বলেন, ‘‘কিছু ধান্দাবাজ ছেলে বিজেপির ঝাণ্ডা নিয়ে এই সব করছে।’’ সোনামুখী পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের কোনও কাউন্সিলর এক টাকা ‘কাটমানি’ নিয়েছে অভিযোগপ্রমাণ করতে পারলে সবাই মিলে পদত্যাগ করবেন বলে দাবি করেন সুরজিতবাবু। তাঁর সাফাই ‘বাচ্ছা মেয়ে’ কাউন্সিলর হয়েছে, সেই ঈর্ষাতেই কেউ কেউ এই কাণ্ড করছে৷