পাঠানকোট: সকালে কাঠুয়া গণধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল৷ সন্ধে নামার আগে দোষীদের সাজা ঘোষণা করল পাঠানকোটের বিশেষ আদালত৷ তিন প্রধান অভিযুক্ত সঞ্জী রাম, প্রবেশ কুমার ও দীপক খাজুরিয়ার যাবজ্জীবন সাজা শোনাল আদালত৷ অপরদিকে দোষী সাব্যস্ত সুরেন্দ্র বর্মা, আনন্দ দত্ত ও তিলক রাজকে পাঁচ বছর কারাবাস নির্দেশ দিলেন বিচারক৷ তবে প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায় সপ্তম অভিযুক্ত বিশাল রাম৷

গত বছরের ১০ জানুয়ারি অপহরণ করা হয় আসিফা নামে এক নাবালিকাকে। লালসা মেটাতে দিনের পর দিন চলে গণধর্ষণ। সেই দলে ছিল পুলিশ অফিসারেরাও। এমনকী মাথায় পাথর মেরে খুন করার আগের মুহূর্তে হত্যাকারীকে অপেক্ষা করতে বলে এক পুলিশ অফিসার। কারণ, আরও একবার ধর্ষণ করে নিতে চেয়েছিল সে। এমনকি উত্তরপ্রদেশের মীরট থেকে এক ব্যক্তি তার খিদে মেটাতে গিয়েছিল কাঠুয়াতে। ১৭ জানুয়ারি, ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয় জঙ্গলের ভিতর থেকে। স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ। পুলিশের চার্জশিটের পর তিন মাস আগের জম্মুর হাড়হিম ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এখানেই শেষ নয় ফরেন্সিক রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ধর্ষণের আর খুনের আগে প্রচুর পরিমাণে মাদক দেওয়া হয়েছিল নাবালিকাকে। সেই সময় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মেরে ফেলার আগেই হয়ত কোমায় চলে গিয়েছিল আট বছরের ওই নাবালিকা। চাপের মুখে তৎকালীন মুফতি সরকার বিশেষ আদালতে মামলার শুনানির করার নির্দেশ দেন। যত দ্রুত সম্ভবত মামলা যাতে নিষ্পত্তি হয় সে বিষয়েও নির্দেশ দেন তৎকালীন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো লাগাতার ১৭ মাস ধরে চলে মামলার শুনানি। শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করল।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।