লখনউ: কিছু বর্বর মানুষের জন্য সাক্ষাৎ মৃত্যুকে দেখেছেন সামনে থেকে৷ পুলিশ প্রশাসন ভরসা দিলেও কাটেনি আতঙ্ক৷ কিন্তু পেটের দায় বড় দায়৷ তাই ঘটনার দু’দিন কাটতে না কাটতেই ফের লখনউয়ের রাস্চার পসরা সাজিয়ে হাজির কাশ্মীরের বাসিন্দা আবদুল সালাম৷ তবে শহরের চেনা জায়গা নয়৷ পুলিশের নির্দেশেই সালামকে দোকান সাজাতে হয়েছে অন্যত্র৷

প্রহৃত কাশ্মীরি যুবক সালামের কথায়, ‘‘গত দশ বচর ধরে রয়েছি লখনউতে৷ কখনও এই ধরণের ঘটনার সাক্ষী হতে হয় হয়নি৷ তবে পুলিশ প্রশাসনের জন্যই সেই যাত্রাই রেহাই মিলেছে৷ বহু সহৃদয় মানুষও বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত৷’’ লখনউয়ের ডালিগঞ্জে নয়৷ পুলিশের কথা মত সালাম দোকান সাজিয়ে বসেছে লোহিয়া পথে৷ বুকে চাপা আতহ্ক থাকলেও অবশ্য কাজু, আখরোট-সহ ড্রাই ফ্রুটসের নানা উপকরণ রয়েছে তাঁর কাছে৷ বিকিকিনিও হচ্ছে বেশ ভালো৷

আবদুল সালাম দোকান সাজালেও সেদিনে অতি ডানপন্থী সংগঠনের সদস্যদের হাতে প্রহৃত আরেক কাশ্মীরি মহম্মদ আফজল অবশ্য এখনও পসরা সাজাননি৷ মারের আতঙ্ক এখনও তাকে তাড়া করে বেরোচ্ছে৷ যদিও গুন্ডাদের হাত থেকে বেঁচে ফেরার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি৷ ভরসা বেড়েছে চার দুষ্কতি গ্রেফতার হওয়ায়৷

কাশ্মীরিদের উপর দেশের নানা প্রান্তে হিংসার ঘটনা বেড়েছে পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই। কখনও চিকিৎসক, কখনও দেরাদূনের পড়ুয়া, কখনও বা নিরীহ শাল বিক্রেতা আক্রান্ত হয়েছেন কেবল জন্মসূত্রে কাশ্মীরি হওয়ায়৷ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে। ডালিগঞ্জে দুই ফল বিক্রেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় মারধরের অভিযোগ উঠল। বুধবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দক্ষিণপন্থী সংগঠনের জনা কয়েক সদস্য আচমকাই চড়াও হয় ওই ড্রাই ফ্রুটস বিক্রেতার উপর। তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ৷

ফেসবুকে শেয়ার হওয়া সেই ভিডিও৷ যেখানে অভিযুক্ত গেরুয়া জামা পরিহিতকে পরিষ্কার বলতেও শোনা যায়, শুধুমাত্র কাশ্মীরি হওয়ার জন্যই ওই দুজনের এই পরিণতি। লাঠি দিয়ে মারায় রক্তাক্ত হন ওই দুই ড্রাই ফ্রুটস বিক্রেতা। তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ অবশ্য পরে অতি গেরুয়া সংগঠনের চার জনকে গ্রেফতার করে৷

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশে পাঠানো হয়৷ সেখানে কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়৷ তারপরও বুধবারের ঘটনা কিভাবে ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়৷ শুক্রবারই ফের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে৷

বিবিধের মাঝে মিলনের দেশ ভারত৷ আশার কথা আতঙ্ক কাটিয়ে লখউতে বিক্রিবাটা শুরু করেছেন সালাম৷ অচেনা পরিবেশ নয়, কাজের টানে নবাবের শহরকে আপন গড়িমায় দেখতে চায় কাশ্মীরি যুবক সালাম, আফজলরা৷