নয়াদিল্লি: বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রী আসিয়া আন্দ্রাবির সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগ রয়েছে পাকিস্তান সেনার৷ পাশাপাশি, আইএসআইয়ের কাছ থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাস চালানোর জন্য আর্থিক সাহায্যও পায় সে৷ এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ৷ দুদিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে৷

সূত্র জানাচ্ছে, আসিয়াকে জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে৷ কাশ্মীরে লস্কর ই তৈবা ও জামাত উদ দাওয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে এই আসিয়া৷ সেখান থেকেই পাক সেনার একাংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে চলে সে৷ সম্পর্কে এক পাক সেনা অফিসার আসিয়ার আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে৷

মঙ্গলবার এনআইএ-র হাতে ধরা পড়ে আসিয়া৷ তারই সাথে গ্রেফতার করা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মাসারাত আলম, শাবির শাহকে৷ ইতিমধ্যেই ১০ দিনে এনআইএ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের৷ আপাতত দিল্লির তিহার জেলে বন্দী এরা৷

আরও পড়ুন : আয়ুষ্মান ভারতে যোগ দিতে মমতাকে চিঠি পাঠালেন মোদীর মন্ত্রী

এনআইএ জানাচ্ছে, পাক সেনায় শুধু আসিয়ার আত্মীয়ই নয়, আরও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট রয়েছেন৷ তাঁর সঙ্গে যোগ রয়েছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়েরও৷ দুবাই ও সৌদি আরবে যে আত্মীয়রা থাকে, তারাও কাশ্মীরে সন্ত্রাস চালানোর জন্য আর্থিক সাহায্য করত বলে খবর৷

কাশ্মীরে দুখতারান-ই-মিল্লত( দেশের কন্যারা) নামে একটি সংগঠন চালাত আসিয়া৷ এই সংগঠনের আড়ালেই দেশদ্রোহী কাজ কর্ম চলত বলে মনে করছে এনআইএ৷ ২০১৮ সালের জুলাই মাসে একটি নাশকতার সঙ্গে এই দুখতারান-ই-মিল্লতের যোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ চার বছর আগে, সেনার ওপর পাথর ছুঁড়ে বিক্ষোভ দেখায় আসিয়া৷ সেই বিক্ষোভ মিছিলেই পাকিস্তানি পতাকা ও পাক জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিল সে, বলে জানতে পেরেছেন এনআইএ-র আধিকারিকরা৷

২০১৭ সালের ৩০শে মে যে কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল এনআইএ, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এই আসিয়া৷ ২০১৮ সালেই তাকে দেশদ্রোহের অপরাধে গ্রেফতার করে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়৷ তবে পরে ছাড়াও পেয়ে যায় সে৷

এদিকে, ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় এক তালিকা৷ যে তালিকায় রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করা ১০ মোস্ট ওয়ান্টেড টেররিস্টের নাম৷ তালিকার শীর্ষে রয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি গোষ্ঠীর অন্যতম মাথা ও উপত্যকায় হিজবুলের প্রধান রিয়াজ আহমেদ নাইকুর নাম৷ নাইকু ২০১০ সাল থেকে হিজবুলের সঙ্গে যুক্ত৷ কাশ্মীরে একাধিক নাশকতার সঙ্গে সে জড়িত বলে অভিযোগ৷ এই নামগুলি প্রকাশ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও সংগঠিত করতে চাইছে ভারতীয় সেনা বলেই খবর৷

আরও পড়ুন : পশ্চিমি দেশের তুলনায় ভারতের রাজনৈতিক দলের গুগল-ফেসবুকে খরচ কম

তালিকায় রয়েছে শ্রীনগরের বাসিন্দা মহম্মদ আশরাখ খান, বারামুল্লার মেহেরাজদুদ্দিন, শ্রীনগরের ড: সাইফুল্লা, কুপওয়াড়ার আজাজ আহমেদ ও আরশিয়াদ উল হকের নাম৷ এরা প্রত্যেকেই হিজবুল মুজাহিদিনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য বলে ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর৷

এছাড়াও নাম রয়েছে লস্কর ই তৈবার ওয়াসিম আহমেদ ওরফে ওসামার৷ যে সোপিয়ান থেকে বিভিন্ন নাশকতা মূলক কাজকর্ম চালায়৷ জইশ ই মহম্মদের হাফিজ উমর ও জাহিদ শেখের নাম রয়েছে ওই তালিকায়৷ অল বদর জঙ্গি জাভেদ আহমেদ মাট্টু জায়গা পেয়েছে তালিকায়৷