সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা :  চায়ের কাপে ঝড় তুলতে বাঙালি অভ্যস্ত। সকাল হোক কিংবা বিকেল, টিফিন ব্রেকে কিংবা রবিবারের আড্ডায় চায়ের সঙ্গে টা না থাকলেও চলবে, কিন্তু বদলে জমাটি তর্ক না হলে জমে না। কিন্তু এ এক এমন যা বাঙালির গরম তর্ককে নরম করে দিতে পারে। মন এবং শরীরে দেয় ওপার শান্তি। এমনই সুস্বাদু কাশ্মীরি এই চা। যা কলকাতায় মিলবে মঞ্জুর এবং বিলালের কাছে গেলে। অশান্তিতে ভরা মনে নিমেষে ভালো হয়ে যেতে পারে।

কাশ্মীর মানে যেমন সৌন্দর্য, তেমন কাশ্মীর বললেই এখন বেশী সামনে আসে অশান্তির ছবি। যেকোনও সময়েই হয়ে যেতে পারে যা খুশি। গুলি বর্ষণ , কিংবা পাহাড়ি কোনও গ্রামে জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটি। সেই ঘাঁটি তছনছ করতে আসা সেনা। এইসব চিত্র এখন হর এক দিনের। তবু কাশ্মীর ভারতের সুইজারল্যান্ড।

আজও ভারতীয় সিনেমার সেরা ছবির মধ্যে অন্যতম ‘কাশ্মীর কি কলি’। তেমনই কাশ্মীরি চা বা কাশ্মীরি কাওয়া, যা এক চুমুকেই মন ভালো করে দিতে পারে। সেই চায়ের পসার বসেছে বিধাননগর মেলায়। এক কাপ কাওয়া ত্রিশ টাকা। মন ভালো করে দেবে।

কাশ্মীরের শ্রীনগর থেক মেলায় এসেছেন মঞ্জুর এবং বিলাল। গায়ের ফরসা রঙ এবং মুখের গড়নেই স্পষ্ট কাশ্মীরি ছাপ। বিশাল মেলায় ছোট্ট একটি স্টল দিয়েছেন তাঁরা। বসিয়েছেন চায়ের সুন্দর পাত্র। এর নাম কাশ্মীরি সামাবার। এই সামাবারের মধ্যেই আছে আসল জাদু যা চায়ের স্বাদকে অসাধারণ করে দেয়। সঙ্গে দেওয়া হয় কেশর, এলাচ, দারচিনি। পরিমাণ কতটা? মঞ্জুর বলেন, “অনেকে কলকাতাতেও কেশর দারচিনি মিশিয়ে গ্রিন টি তৈরি করে কাওয়া বিক্রি করতেই পারে।

কিন্তু এই যে চা তৈরির পাত্র সেটা একমাত্র কাশ্মীরেই পাওয়া যায়। এর মধ্যে জল আর কাঠ কয়লা দিয়ে আগে জল ফুটিয়ে নি। এরপরে ৭০ শতাংশ কেশর, বাকি ২৫ শতাংশ এলাচ বাকি পাঁচ শতাংশ দারচিনি। এই তিনটি একসঙ্গে মিশিয়ে সামাবারের ভিতরে গরম করলেই কাওয়ার আসল স্বাদ হবে। যত গরম হবে স্বাদ তত ভালো হয়।”

মঞ্জুর বলেন, “কাজু, ওয়ালনাট, আমন্ড ব্যবহার করলে এই চায়ের দাম তখন পঞ্চাশ টাকা হবে। তখন স্বাদ আরও সুন্দর। পাশাপাশি শীত কালে শরীর গরম করে এবং এর স্বাদ মন ভালো করে দেয়। শরীরের জড়তা কাটায়।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ