নিউইয়র্ক: রাষ্ট্রসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলির সাইড লাইন বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ফের একবার স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর৷ তিনি এদিন জানান ৫ই অগাষ্টের আগে পর্যন্ত কাশ্মীর একটা নরকের মত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল৷ ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে সেখানে সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে৷

বুধবার জয়শঙ্কর জানান, কাশ্মীর থেকে হিংসা দূর করাই কেন্দ্র সরকারের কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ৷ একটাও যাতে প্রাণহানি না হয়, তার জন্য সদা সচেষ্ট সরকার৷ ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর উত্তপ্ত হয়ে কাশ্মীর৷ সেই পরিস্থিতি আর চায় না কেন্দ্র৷ সন্ত্রাসকে সমূলে বিনাশ করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য৷

বিদেশমন্ত্রীর মতে কাশ্মীর এখন অনেক শান্ত৷ বিশ্বকে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে, সদর্থকভাবে চাইলে যে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব৷ কোনও তৃতীয় শক্তির কাছে মাথা নত না করেই ভারত কাশ্মীরকে শান্ত করেছে, এখানেই মোদী সরকারের সাফল্য৷ গত তিন দশকে ৪২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন কাশ্মীরে৷ সেই মৃত্যু মিছিল বন্ধ করতে চেয়েছে ভারত৷ কাশ্মীরকে দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতই এক স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে চেয়েছে৷ সেই লক্ষ্যে এখন সফল মোদী সরকার৷

এদিন জয়শঙ্কর বলেন ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তান এবং চিন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিন্তু এই দুই দেশের অ্যাজেন্ডা ভিন্ন। পাকিস্তান শুধুমাত্র ভারতের জন্যই তৈরি করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের ব্যাঘাত ঘটায় বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। আর সেটাকেই কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তান।

একদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাশে বসিয়ে সরাসরি তোপ দাগেন ট্রাম্প। তিনি বলেন মোদী খুব ভালো করে জানেন সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে কী ধরণের আচরণ করতে হবে। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সামনেই একথা বলেন তিনি।

নিউ ইয়র্কে ভারত, জাপান, জার্মানি ও ব্রাজিলের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু টেররিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় আপত্তি আছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য, সন্ত্রাসে মদত দেওয়া দেশের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোর বিরোধী ভারত। তাঁর দাবি, কাশ্মীর ইস্যুর মোকাবিলায় সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে কার্যত একটা ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে ফেলেছে পাকিস্তান। আর সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতিবেশী ভারতের উপর।