নয়াদিল্লি: রাজ্যসভার পর লোকসভাতেও জয় মোদী সরকারের। পাশ হয়ে গেল ‘কাশ্মীর পুনর্গঠন’ বা ‘আর্টিকল ৩৭০’ বিল। মঙ্গলবার সন্ধেয় ৩৬৬ ভোটে লোকসভায় বিলটি পাশ হয়ে গিয়েছে। এবার শুধু রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষা।

এর আগে রাজ্যসভায় ‘কাশ্মীর রি-অর্গানাইজেশন বিল’ পাশ হয় দুই তৃতীয়াংশ ভোটে। সোমবারই সেই বিল পাশ হয়ে যায়। সোমবার সকালেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

আরও পড়ুন: ‘আরও একটা পুলওয়ামা হতে বাধ্য’, পাক পার্লামেন্টে বিস্ফোরক ইমরান

আর্টিকল ৩৭০-এর সাহায্যে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্ক ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৭০ বছরের ইতিহাস বলছে সম্পর্ক আরও বিগড়েছে। সেক্ষেত্রে, জম্মু ও কাশ্মীরকে আর আলাদা চোখে দেখতে রাজি নন নরেন্দ্র মোদী। ভারতের বাকি রাজ্য গুলির মতোই থাকবে জম্মু ই কাশ্মীর। ভয়ঙ্কর ভূ-স্বর্গ কে শান্ত করার অঙ্গীকার নিয়েছেন মোদী।

মঙ্গলবার, জম্মু কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল লোকসভায় পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তখনই জানিয়ে দেন জম্মু কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল ও থাকবে৷ কারোর ক্ষমতা নেই সেই অংশে দখলদারি করার৷ তবে এদিন লোকসভায় বিলের আলোচনার সময় প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ তাঁর প্রশ্ন, জম্মু কাশ্মীর কোনওভাবেই অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়৷ আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান বের করা উচিত ছিল৷

আরও পড়ুন: আর্টিকলে 370 এবং 35A: কেন নীরব ছিলেন বুঝিয়ে দিলেন মমতা

অন্যদিকে, এদিন ভোটাভুটিতে অংশ না নিয়ে ওয়াক আউট করে যায় তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি এই বিল সমর্থন করছেন না। এই বিল আনার আগে সবার সঙ্গে কথা বলা উচিৎ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দলকে বিষয়টা জানানো দরকার ছিল। কাশ্মীরিদের সঙ্গেও কথা বলা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি।

তৃণমূলনেত্রীর মতে কোনও বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলা উচিৎ। তাই তাঁরা এই বিলে সমর্থন করছেন না এবং ভোটাভুটিতেও অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।