মামল্লাপুরম: দু’দিনের অনানুশঠানিক সাক্ষাতের পর শনিবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সেরেই নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, বন্ধুর মত কথাবার্তা হয়েছে দু’জনের। ভারত-চিন সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে একাধিক বিষয়ে কথা বলেছেন তাঁরা। তবে বহুচর্চিত কাশ্মীর ইস্যুতে কোন কথা হয়নি। তেমনটাই জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

জিনপিং ফিরে যাওয়ার পর শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানান বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল। তামিলনাড়ুতেই সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়েছেন, মামাল্লাপুরমে মোদী এবং জিনপিংয়ের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে তাতে কাশ্মীর ইস্যুতে কোনও কথা হয়নি। কাশ্মীর যে একান্তভাবেই ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয় সেটা আবারও পরিষ্কার হয়ে গেল।

কাশ্মীরকে উহ্য রেখেই সন্ত্রাস দমনে আলোচনা কাশ্মীর ইস্যুতে একটি কথাও বলেননি চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং। ভারতের তরফ থেকেও এই প্রসঙ্গে কোন কোন কথা বলা হয়নি। এক প্রকার উভয়ের সতর্ক সম্মতিতেই কাশ্মীর প্রসঙ্গ উহ্য থেকে গিয়েছে বৈঠকে। তবে জঙ্গি দমনের কার্যকলাপ নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছে দু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ভারত ও চিন একযোগে জঙ্গি দমনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহমত জানিয়েছে।

মোদীকে আমন্ত্রণ জিনপিংয়ের কাশ্মীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথমে আপত্তি চিনও দেখিয়ে ছিল। কিন্তু এক প্রকার ভারতের ত‌ৎপরতাতেই সেই উদ্যোগ তেমন আগ্রাসী আকার নেয়নি। পাকিস্তানের একাধিক আবেদন, অনুযোগ, অভিযোগও তেমন গুরুত্ব পায়নি চিনের কাছে। জিনপিংয়ের ভারত সফরই তার প্রমাণ। বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে চিনে আয়োজিত ভারত-চিন সামিেট যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

মোদীর অভ্যর্থনায় আপ্লূত জিনপিং এই দু’দিনে চিনের প্রেসিডেন্টের আপ্যায়নে কোনও কসুর করেনি মোদী সরকার। নিরাপত্তা থেকে রসনা তৃপ্তি সবেতেই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দু’দিনের এই ভারত সফর আতিথেয়তায় যে আপ্লুত জিনপিং সেটা যাওয়ার আগে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছে। ভারতকে বিদায় জানানোর শেষ মুহূর্তে জিনপিং বলেছেন, তাঁদের বৈঠক অনেক আত্মিক এবং গভারে গিয়ে হয়েছে। জিনপিংয়ের এই বক্তব্যই বুঝিেয় দিয়েছে মোদী কাজ উদ্ধার করে ফেলেছেন। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান যে বড় ধাক্কা খেল তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

মামল্লমপুরমের ফিশারম্যান কভ রিসর্টে প্রতিনিধিদের নিয়ে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিং। দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার উপর জোর দিলেন দু’জনেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বিবৃতিতে জানান, উহান বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে বিশ্বাস গড়ে তোলে কিন্তু ‘চেন্নাই ভিশন’ ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন যুগ শুরু হল। দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ বিষয় আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে বেজিং-নয়া দিল্লির কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা। যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্থায়িত্ব এনেছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও