তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া); ফের মেজাজ হারালেন সিপিএম নেতা ও বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। শুক্রবার বাঁকুড়ায় দলের জেলা দফতরে সোশ্যাল মিডিয়া সেলের উদ্বোধনে এসেছিলেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের পুরসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে বর্ষীয়ান এই সিপিএম নেতা বলেন, ‘কোন আলোচনা হয়নি। আপনার মনে যা আছে মাধুরী মিশিয়ে নিউজ করে দিন। কারণ আপনিই তো সিদ্ধান্ত নেবেন’।

কাশ্মীর ও দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে আটক প্রসঙ্গে এদিন তিনি বলতে গিয়ে বলেন, সরকারী ভাষ্য অনুযায়ী ওখানে সব ঠিক ঠাক আছে। আর ঠিক যদি সব থেকে থাকে তাহলে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও সিপিআই সাধারণ সম্পাদককে কেন আটক করা হল। এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিমান বসু আরও বলেন, তারা বিমানবন্দরে নামার তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। ৩৭০ ধারা বিলোপ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, দেশের একটি রাজ্য কমে গেল। এসবের কোন দরকার ছিল না দাবী করে তিনি বলেন, বহুভাষাভাষির দেশ আমাদের। সব জায়গায় এক নিয়ম হতে হবে এমন কোন মানে নেই।

দলের কথা মানুষের কাছে বেশী বেশী পৌঁছে দিতেই বাঁকুড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া সেল চালু হল বলে এদিন তিনি জানান। এদিন দলের এই কর্মসূচীতে বিমান বসু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র, জেলা সম্পাদক অজিত পতি প্রমুখ। পরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে শ্রীনগর বিমানবন্দরে আটকানোর প্রতিবাদে বিমান বসুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলে পথ হাঁটেন দলীয় নেতা কর্মীরা।

উল্লেখ্য, সামনেই কালিয়াগঞ্জ, খড়গপুর ও করিমপুর বিধানসভা উপনির্বাচন। তিনটি জায়গাতেই বাম-কংগ্রেস জোট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আসন ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে দু-দলের। বিধানভবন সূত্রে খবর, উত্তর দিনাজপুরের অন্তর্গত কালিয়াগঞ্জ কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী দিচ্ছে। খড়গপুর কেন্দ্রও তাদের ভাগে পড়েছে। নদিয়া জেলার অন্তর্গত করিমপুর প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের জায়গা হওয়ায় ওই কেন্দ্রটি সিপিএমকে ছেড়েছে কংগ্রেস। অনেক চেষ্টা করেও লোকসভা ভোটে সিপিএম-কংগ্রেস একসঙ্গে লড়তে পারেনি। যার ফল ভুগতে হয়েছে দু পক্ষকেই। তাই অস্তিত্ব টিকিয়ে লড়াইয়ে এই দুই দলই ২০’র নির্বাচনে একে অপরের হাত ধরতে চলেছে। যদিও বাম-কংগ্রেসের এই জোটকে কটাক্ষ করেছেন মেদিনীপুরের সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।