বর্ধমান:  আত্মসমালোচনা করুন। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি, তাঁর জীবনী জানলেই হবে না। তাঁর জীবনযাত্রাকে নিজের মধ্যে পালন করতে হবে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি টাঙিয়ে রাখবো, তাঁর জীবনী শুনবো আর দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবো – এটা হতে পারে না। শুক্রবার বর্ধমান টাউন হলে জেলা জয়হিন্দ বাহিনীর উদ্যোগে ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রক্তদান উত্সবে বক্তব্য রাখতে এসে এভাবেই দলীয় নেতা-কর্মীদের সমালোচনা করে গেলেন জয়হিন্দ বাহিনীর রাজ্য সভাপতি কার্তিক বন্দোপাধ‌্যায়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আইএনটিটিইউসির জেলার একটি কর্মসূচীতে এসে আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভানেত্রী দোলা সেনও দলীয় নেতা-কর্মীদের তোলাবাজি নিয়ে সরব হন। জেলা নেতারাও একই সুরে সুর মেলান। আর তারপর শুক্রবার প্রায় সেই একই সুরে দলীয় নেতাদের আত্মসমালোচনা করা এবং পরোক্ষে দুর্নীতি করার বিষয়কে তুলে ধরলেন জয়হিন্দ বাহিনীর রাজ্য সভাপতি। আসন্ন পুরভোটের আগে শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের এই বক্তব্যকে ঘিরে ক্রমশই রাজনৈতিক চর্চার পারদ তুঙ্গে উঠতে শুরু করেছে।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, জয়হিন্দ বাহিনী তৃণমূলের কোনও শাখা সংগঠন নয়। এটা একটা সামাজিক সংগঠন। সামাজিক কাজ করে তৃণমূলকে শক্তিশালী করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এখনও তৃণমূল স্তরে স্বাস্থ্যসাথীর সুফল পৌঁছায়নি। এই কাজ করবে জয়হিন্দ বাহিনী। কিন্তু সেভাবে কাজ হচ্ছে না। বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন রীতিমত আত্মসমালোচনায় মুখর হন কার্তিকবাবু। তিনি বলেন, প্রতিদিন নিজেদের ভেবে দেখতে হবে তাঁরা কি কি ভুল করলেন। কি পাবো প্রতিনিয়ত এটা ভাবলে হবে না। নিজেদের শুদ্ধিকরণ করা দরকার।

উল্লেখ্য এদিন এই রক্তদান উত্সবে ১১০০ বোতল রক্ত সংগৃহিত হয় বলে জানিয়েছেন জয়হিন্দ বাহিনীর জেলা সভাপতি রবীন নন্দী। অন্যান্যদের মধ্যে এদিন এই উত্সবে হাজির ছিলেন বর্ধমান পুর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, বিধায়ক অলোক মাঝি, নার্গিস বেগম সহ জেলা তৃণমূল নেতারাও। নার্গিস বেগম এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্প্রতি বিধানসভায় তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরী হয় তা তুলে ধরে বলেন, তিনি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ভুল স্বীকার করেছেন, দল তাঁকে শিক্ষা দিয়েছে, কিন্তু বামেদের মত তিনি কোনো নাটক করেননি। দল তাঁকে নাটক শেখায় নি।