দুবাই: প্রথম দুটি ম্যাচে ভিন্ন স্টেডিয়ামে খেলার পর দুবাইয়ে টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা দু’দলের কাছেই ছিল দারুণ চ্যালেঞ্জিং। ম্যাচ শেষে দেখা গেল রাজস্থান রয়্যালস নতুন ভেন্যুর চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে পড়ল। পক্ষান্তরে অনেক বেশি সাবলীল নাইট রাইডার্সরা। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৭ উইকেটে হারানোর পর রাজস্থান রয়্যালসকে সহজেই ৩৭ রানে হারিয়ে লিগ টেবিলে দু’নম্বরে উঠে এল নাইট রাইডার্স।

তবে নাইটদের এই জয় কারও একক দক্ষতায় আসেনি। বরং রয়্যালসের বিরুদ্ধে পার্পল ব্রিগেডের এই জয় দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ব্যাট হাতে গিল-মর্গ্যান নজর কাড়ার পর বল হাতে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে আরও একবার মুগ্ধ করলেন শিবম মাভি-কমলেশ নাগারকোটি-বরুণ চক্রবর্তীরা। ২০১৮ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের তিন তারকাকে (গিল, মাভি, নাগারকোটি) দলে নেওয়ার পর গত ম্যাচেই তিনজনকে একত্রে খেলানোর সুযোগ পেয়েছিল কেকেআর শিবির। নজর কেড়েছিলেন তিনজনেই। আর রয়্যালসের বিরুদ্ধে বুধবারের জয়টা তো এই তিন তরুণ তুর্কির হাত ধরেই এল বলা যায়।

এদিন ব্যাট হাতে যদি নাইটদের জয়ের নায়ক হন গিল (৩৪ বলে ৪৭), মর্গ্যান (২৩ বলে ৩৪*) এবং রাসেল (১৪ বলে ২৪)। তাহলে বল হাতে নায়ক শিবম মাভি (২/২০), নাগারকোটি (২/১৩), বরুণ চক্রবর্তী (২/২৫)। ম্যাচ শেষে এই জয়কে স্বাভাবিকভাবেই ‘কালেক্টিভ এফর্ট’ আখ্যা দিলেন অধিনায়ক। একইসঙ্গে জানালেন টস জিতলে প্রথমে তারাও ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিতেন। কার্তিক বলেন, ‘আমি এই জয়কে নিখুঁত বলব না। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আমাদের উন্নতি করতে হবে। তবে হ্যাঁ এটা নিঃসন্দেহে দারুণ ম্যাচ আমাদের জন্য। বহু বিষয় আমাকে আশ্বস্ত করেছে। যেভাবে গিল শুরু করেছিল, যেভাবে রাসেল শুরু করেছিল কিংবা মর্গ্যান যেভাবে ঠান্ডা মাথায় ইনিংস শেষ করল।’

গত দু’টো মরশুমে চোটের কারণে বাইরে থাকার পর গত ম্যাচে আইপিএল অভিষেকেই অধিনায়কের মন জিতে নিয়েছিলেন নাগারকোটি। তাঁকে নিয়ে ম্যাচ শেষে আবেগঘন দেখিয়েছিল অধিনায়ককে। এদিনও ২ উইকেট নেওয়া নাগারকোটির প্রশংসা কার্তিকের গলায়। একইসঙ্গে বাটলার এবং স্যামসনের উইকেট তুলে নেওয়া ম্যাচের সেরা মাভিতে মুগ্ধ নাইট অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে জানালেন, ‘এটা দারুণ একটা বিষয় যে নাগারকোটি, শিবম দু’জনেই দলের জয়ে ভূমিকা নিয়েছে। ওরা যখন চোটের কারণে খেলার সুযোগ পাচ্ছিল না তখন এক আলাদা জার্নির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ওদের। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বল হাতে ওরা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরল সেটা অতুলনীয়।’ পাশাপাশি মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী কিংবা প্রথম ম্যাচে সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়া প্যাট কামিন্স পরের দু’ম্যাচে যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করল তাও যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক কার্তিকের কাছে। তবে সবকিছুর মাঝেও ব্যাট হাতে নিজের পারফরম্যান্স যে তাঁকে চাপে রাখবে সেটা বলাই বাহুল্য।

উল্লেখ্য, নাইটদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে গিয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে এদিন ১৩৭ রানের বেশি তুলতে পারেনি রয়্যালসরা। ৩৭ রানে ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলে সাত নম্বর থেকে দু’য়ে লাফ দিল নাইটরা।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।