ইসলামাবাদ: অবশেষে ভারতীয় শিখদের জন্য গুরু নানকের জন্ম বার্ষিকীর আগেই পাকিস্তান খুলে দিতে চলেছে কারতারপুর করিডর। ভারত-পাক হাই টেনশন চলাকালীন সময়ে শুরু হয়েছিল এই কারতারপুর করিডরটি তৈরি করার কাজ। কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তিক্ততার পরিবেশ।

যার ফলে কারতারপুর করিডরে ভারতীয়রা প্রবেশ করতে পারবেন কি না সেই বিষয়ে কিছুটা ধন্দে পড়েছিল ভারত।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতীয় শিখদের জন্য খুলে যাচ্ছে এই করিডরটি। আগামী নভেম্বরের ৯ তারিখ নাগাদ সকলের জন্য লে দেওয়া হবে এই করিডোরটি বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই’এর দেওয়া খবর থেকে জানা গিয়েছে, সোমবার পাকিস্তানের তরফ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, গুরু নানাকের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকীর ঠিক তিন দিন আগেথেকে ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই করিডোরটি। যার ফলে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার তীর্থযাত্রী যেতে পারবেন। কারতারপুর করিডোর তৈরির প্রজেক্ট ডিরেক্টর আতিফ মজিদ জানিয়েছেন, ভারত থেকে আসা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার তীর্থযাত্রীর দুপুরের খাওয়া, মেডিকেল সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা গুলি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারত থেকে আগত এইসব তীর্থযাত্রীদের প্রতিদিনের রান্নার জন্য এবং খাবার পরিবেশনের জন্য ছিয়াত্তরটি অভিবাসন কাউন্টারও খোলা হবে। সূত্রের খবর, এই রান্নার জন্য পাক সরকারের প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ টাকা করে খরচ পড়বে বলে জানা গিয়েছে।

আতিফ মজিদ জানিয়েছেন, কাশ্মীরের স্পেশাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার পর শুরু হয়েছিল হাইটেনশন যেভাবে একের পর এক পরিষেবা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের দিক থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল তাতে মনে করা হচ্ছিল, দুই দেশের মধ্যে চলা এই তিক্ত পরিস্থিতিতে হয়ত পাক সরকার কারতারপুর করিডোর এর কাজ বন্ধ করে দেবে। কিন্তু গত একমাস ধরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক তিক্ততার পরিবেশ তৈরি হলেও কারতারপুর করিডোর নিয়ে সবসময় সুর নরম ছিল তাঁদের দেশের। গত জুলাই মাস থেকে অগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মিলিয়ে তিনবার কারতার পুর করিডোর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

যতবারই দুই দেশ এই কারতারপুর করিডোর নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। ততবারই বিভিন্ন খবরে উঠে এসেছিল রাজনৈতিক হিংসা ভুলে তাঁদের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল কারতারপুর করিডোর তৈরি এবং তার ব্যবহারের সুযোগ সুবিধা নিয়ে নানা সংবাদ। আতিফ মজিদ জানিয়েছেন, বর্তমানে এই করিডোরের প্রায় ৮৬ শতাংশ কাজ হয়েগিয়েছে বাকি কাজ আগামী মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও এই করিডোরে সাংবাদিকরাও প্রবেশ করতে পারবেন। তবে সাংবাদিকদের প্রবেশের জন্য কি কি নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ভাবে কিছুই জানায়নি পাক সরকার।

প্রসঙ্গত, এই করিডোরের মাধ্যমে যুক্ত হবে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের গুরুদাসপুর ডেরাবাবা নানক শেরনি এবং পাকিস্তানের লাহোরে দরবার সাহিব গুরু দুয়ার। এছাড়াও ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ভিসার ব্যবস্থাও করে দেবার কথা চলছিল দুই দেশের মধ্যে।