নয়াদিল্লি: ওয়াগা সীমান্তে বৈঠকে ভারত পাকিস্তান৷ সকাল সাড়ে নটা নাগাদ এই বৈঠক শুরু হয়৷ কর্তারপুর করিডর নিয়ে জট কাটাতেই মূলত এই বৈঠকের উদ্যোগ৷ আলোচনা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী ছিল নয়াদিল্লি৷ তবে অতীতকে ফিরিয়ে দিয়ে বেশ কিছু শর্ত সামনে রাখবে পাকিস্তান, এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

এদিকে, দুই দফায় এদিন বৈঠক চলে৷ ১০.২০ নাগাদ শুরু হয় দ্বিতীয় দফার আলোচনা৷ ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (ইন্টারনাল সিকিওরিটি) এসসিএল দাস, বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান) দীপক মিত্তল৷

উল্লেখ্য, গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীতে ভারতের ডেরা বাবা নানক থেকে পাকিস্তানের কর্তারপুর সাহিব পর্যন্ত একটি করিডর খোলার চেষ্টার কথা সামনে আসে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে জানানো হয়। দু’টি তীর্থস্থানের মধ্যে দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। তবে কথা দিয়েও পরে পিছিয়ে যায় ইসলামাবাদ৷

আরও পড়ুন : হামলা হলে পাকিস্তানকে ছেড়ে কথা বলবে না ভারত: বিপিন রাওয়াত

পাক বিদেশমন্ত্রেকর মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল জানিয়ে দেন ভারত পাকিস্তানের মধ্যে কোনও আলোচনা না হলে কর্তারপুর করিডর খোলা নিয়ে ভাববে না পাকিস্তান৷

ইসলামাবাদ জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যতদিন না কোনও সুষ্ঠু আলোচনা হচ্ছে এবং তা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে, ততদিন কর্তারপুর করিডর বন্ধই থাকবে৷ বারবার কর্তারপুর করিডর শিরোনামে উঠে আসে, ২০১৮ সালেই ছিল শিখ ধর্মগুরু গুরু নানক দেবের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকী৷ ভারত থেকে বহু দর্শনার্থী পাকিস্তানে কর্তারপুর সাহিব দর্শন করেন৷

ফলে জটিলতা রয়েই যায়৷ তবে রবিবারের এই আলোচনার পরেই জট কাটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ সূত্রের খবর এদিন আলোচনায় উঠে আসতে পারে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা, যাত্রার রুট, থাকার ব্যবস্থার পরিকাঠামোর মত ইস্যুগুলি৷ চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও এই ইস্যুতে দুই দেশের আলোচনায় বসার কথা ছিল৷ তবে দুদেশের রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে স্বাভাবিকভাবেই তা পিছিয়ে যায়৷

আরও পড়ুন : ব্রহ্মপুত্রে ডুবতে বসেছে বিষ্ণুমূর্তি, বিপদ বাড়ছে শেষ নাগে

এর আগে, প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছিলেন চুক্তি মেনে কর্তারপুর সাহিবের ভারতীয় দর্শনার্থীদের জন্য রাস্তা খোলেনি পাকিস্তান। এমনকি কোনও আলোচনা চেয়ে চিঠিও পাঠায়নি। ফলে ভারতের পক্ষ থেকেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া যায়নি৷

গত বছর নভেম্বর মাসে উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং গুরুদাসপুরে কর্তারপুর করিডরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন৷ পাকিস্তানেও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাদের তরফে ভিত্তিপ্রস্থার স্থাপন করেন৷ পরে ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এলে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়৷ আটারি-ওয়াগা সীমান্তে ১৪ই মার্চ দুইদেশ প্রথম দফার বৈঠক সারে৷ কর্তারপুর করিডর নিয়ে লিখিত খসড়া চুক্তি তৈরি হয়৷