বেঙ্গালুরু: করোনা নিয়ে উদ্বেগ – আতঙ্ক বাড়ছে। ক্রমশ ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে কর্ণাটক সরকার বেঙ্গালুরু ও সংলগ্ন এলাকায় সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে সেই লকডাউন। নয় দিনের এই লকডাউনে জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশিকা।

জানানো হয়েছে বেঙ্গালুরু শহর ও শহরতলি, বেঙ্গালুরু সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকা এই লকডাউনের আওতাভুক্ত থাকবে। ২২শে জুলাই ভোর পাঁচটা পর্যন্ত সম্পূর্ণ লকডাউন জারি করা হয়েছে। বি এস ইয়েদুরাপ্পা সরকার এজন্য কড়া নির্দেশিকাও জারি করেছে।

রাজ্য সরকার জানাচ্ছে এই এলাকায় যেসব কনটেনমেন্ট জোন রয়েছে, সেখানে সরকারি সমস্ত অফিস ও দফতর বন্ধ থাকবে। কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে খোলা থাকবে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অফিস ও দোকান, পুলিশ স্টেশন, দমকল, হোম গার্ড, সিভিল ডিফেন্স, চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিষেবা, সংশোধনাগার, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।

জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অফিসও খোলা থাকবে। এছাড়াও জানানো হয়েছে বিচার বিভাগীয় কাজ চলবে কর্ণাটক হাইকোর্টের জারি করা নির্দেশিকা মেনে। খোলা থাকবে করোনা সংক্রান্ত দফতর। যে সব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা করোনার ত্রাণে কাজ করছে, তাদেরও দফতর খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কর্ণাটকে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৬১৩ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪,৭১৬জন। বেঙ্গালুরু গোটা রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মঙ্গলবার বিকেল থেকে ২২ শে জুলাই পর্যন্ত সেখানে সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে।

এরই মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও জেডিএস নেতা এইচ ডি কুমারাস্বামী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বেঙ্গালুরু জুড়ে যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, তা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও খারাপ থেকে খারাপতর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা দেশগুলি যদি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন না করে তবে বিশ্বজুড়ে এই করোনা মহামারির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়তে পারে।

হু-এর প্রধান টেড্রোস অ্যাধনম জেনেভায় একটি ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, অনেক দেশই ভুল পথে এগিয়ে চলেছে, তার ফলে বিশ্বের মানুষের কাছে আজও ভাইরাস রয়েছে জনসাধারণের পয়লা নম্বরের শত্রু।

রয়টার্সের একটি সমীক্ষা বলছে, করোনা সংক্রমণে সারা বিশ্বে আক্রান্ত প্রায় ১৩ মিলিয়নের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষের বেশি মানুষের। এই মুহূর্তে করোনায় সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে আমেরিকা ও ব্রাজিল। এরপরেই আক্রান্তের বিচারে তালিকায় রয়েছে ভারতের নাম।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ