বেঙ্গালুরু: গুজরাতে প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিশ্বের সবথেকে বড় মূর্তি। সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের থেকেও বড় শিবাজির মুর্তি হচ্ছে মহারাষ্ট্রে। এবার সেই পথে হেঁটে কাবেরী মায়ের মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব দিল কর্ণাটক সরকার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের পর ওই রাজ্যে ভাঙা হয়েছিল লেনিনের মূর্তি। এর পরে সেই মূর্তি ভাঙার রেশ ছড়িয়ে পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যা নিয়ে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। মাস খানেকের মধ্যেই সেই ধারা বদলে গিয়েছে মূর্তি নির্মাণে।

কর্ণাটকের রাজ্য সরকারকের প্রস্তাব অনুসারে ওই মূর্তি প্রতিষ্ঠা হবে কাবেরী নদীর কৃষ্ণ রাজা সাগর বাঁধের উপরে। যেটি তামিলনাড়ু রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা মান্ডিয়া জেলায়। ১২৫ ফুট মূর্তি তৈরির জন্য খরচ ধার্য করা হয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। এই মূর্তি স্থাপনের ৪০০ একর জায়গাও নির্বাচন করে ফেলেছে কর্ণাটক সরকার। আশা করা হচ্ছে আগামী দুই বছরের মধ্যে কাবেরী নদীর উপরেই মাথা তুলে দাড়াবেন মা কাবেরী।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে মূর্তি গড়ার পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি পরিচালিত সরকার। বিপুল ব্যায়ে মূর্তি নির্মাণের পিছনে তাদের যুক্তি ছিল পর্যটন শিল্পের উন্নতি। সেই উদ্দেশ্যেই প্রায় তিন হাজার কটি টাকা খরচ করে নর্মদা নদীর পারে লৌহমানবের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একই কারণে আরব সাগরের তীরে আরও বড় মূর্তি হচ্ছে।

কর্ণাটকে কাবেরী নদীর তীরে দেবী কাবেরীর মূর্তি তৈরির পিছনেও রয়েছে একই কারণ। পর্যটন শিল্পের উন্নতি। এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই সেখান থেকে রাজ্য সরকারের আয়। যদিও এই বিজেপির কাবেরী দেবীর মূর্তি তৈরির পরিকল্পনা বিজেপির থেকে অনুপ্রাণিত বলে মানতে নারাজ কর্ণাটক সরকার।

ওই রাজ্যের সেচমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার জানিয়েছেন যে গুজরাতের স্ট্যাচু অফ ইউনিটির সঙ্গে কর্ণাটকের কাবেরী মায়ের মূর্তির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি। “আমরা ঠিক মূর্তি করতে চাইছি না। একটা টাওয়ার গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে কাবেরী দেবীর মূর্তি স্থাপনের জন্য সরকার কোনও খরচ করবে না। পুরোটাই হবে পিপিপি মডেলে। যার মধ্যে সরকার শুধু জমি দেবে। বিনিয়োগ করার জন্য উদ্যগপতিদের আহ্বান জানানো হবে। পর্যটন ব্যবসার থেকে তারা লাভ করবে।